নিউজ ডেস্ক: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, দেশে সারের কোনো সংকট নেই। ‘বেহেশতের টিকিট’ বিক্রি করে নির্বাচিতরাই নিজেদের দলের কর্মীদের দিয়ে হইচই করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। জনগণের সরকারকে হেয় প্রতিপন্ন করতেই একটি রাজনৈতিক দল এই সংকট তৈরি করেছে।
মঙ্গলবার সকালে জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, রংপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, বাগেরহাট, মেহেরপুর ও নড়াইলে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ‘বেহেশতের টিকিট’ বিক্রি করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জেলাগুলোতেই এই সংকট তৈরি হয়েছে। তবে চট্টগ্রাম বিভাগের কোনো জেলা, বগুড়া, পাবনা, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, রাজশাহী ও সিলেটে সারের সংকট নেই।
তিনি বলেন, যেসব জেলায় সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে, সেসব এলাকায় বিদ্যমান ডিলারদের পাশাপাশি নতুন করে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যাতে সংকট তৈরি করা না যায়। প্রয়োজনে নিয়মিত মনিটরিংয়ের পাশাপাশি ডিলারদের গোডাউনও চেক করা হবে। কেউ সার মজুত রেখে সংকট তৈরি করতে পারবে না বলেও জানান তিনি।
মীর শাহে আলম বলেন, বর্তমান সরকারের শুরুর দিকে তেল ও গ্যাস নিয়ে সমস্যা হয়েছিল, যা সরকার অস্বীকার করে না। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধসহ বিভিন্ন কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে জাতির কাছে দুঃখ প্রকাশ এবং সাময়িক সমস্যার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।
তেলের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। দাম না বাড়ালে তেল ভারতে পাচার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। তবে এখনো ভারতের সঙ্গে তেলের দাম সমান হয়নি। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলে দেশের বাজারেও সমন্বয় করে দাম কমানো হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ সমস্যা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা। এর সমাধানে সরকারকে সময় দিতে হবে। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় ভঙ্গুর অর্থনীতি ও একটি অনির্বাচিত সরকারের কাছ থেকে ক্ষমতা পেয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শুধু দায় ও সময় বাড়িয়েছে, দেশের জন্য কোনো কাজ করেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
১১ দলীয় জোটের রংপুরে লংমার্চ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তারা ফুটবল কিংবা ক্রিকেট টিমের মতো জোট করে রংপুরে এসে লংমার্চ করেছে। তেলের সংকট থাকলে তাদের লংমার্চে ব্যবহৃত দুই হাজার গাড়ির জন্য তেল কোথা থেকে এলো, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, লংমার্চ করে যদি তেল ও গ্যাস সমস্যার সমাধান হতো, তাহলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত লংমার্চ করতেন।
এরপর প্রতিমন্ত্রী বড়দরগা সংস্কারকাজ পরিদর্শন করেন। পরে তিনি রংপুর জেলার আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সভায় যোগ দেন। বিকেলে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। পরে জেলা পরিষদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান, শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেনসহ অন্যরা।



