ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅর্থনীতিবাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক

নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি প্রধান বাণিজ্য অংশীদার দেশের আমদানিকৃত পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ‘জোরপূর্বক শ্রম’ প্রতিরোধে কার্যকর আইন ও নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন এই শুল্কহার ১০ শতাংশ এবং ১২ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ পণ্যের ওপর প্রযোজ্য হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর জানিয়েছে, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় দীর্ঘ তদন্ত, গণশুনানি এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, বহু দেশ আমদানিকৃত জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের ওপর কার্যকর নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও শ্রমবাজারের জন্য ক্ষতিকর।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মেক্সিকো, কম্বোডিয়াসহ কয়েকটি দেশ ১০ শতাংশ শুল্কের আওতায় থাকবে। অন্যদিকে চীনসহ যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখাতে পারেনি, তাদের পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে আগে চালু থাকা অস্থায়ী ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের মেয়াদ শেষ হবে। তবে তেল ও গ্যাস, সার, নির্দিষ্ট খাদ্যপণ্য, তথ্যবিষয়ক সামগ্রী, কিছু শিল্প কাঁচামাল এবং জাতীয় অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পণ্যকে এই অতিরিক্ত শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের মতো কয়েকটি দেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের জন্য ভবিষ্যতে বিশেষ ‘ট্যারিফ-রেট কোটা’-র ব্যবস্থাও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য শুধু বাণিজ্যিক ভারসাম্য রক্ষা নয়; বরং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় জোরপূর্বক শ্রমের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা এবং বিভিন্ন দেশকে কার্যকর আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে উৎসাহিত করা। একই সঙ্গে যেসব দেশ ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করবে, তাদের জন্য শুল্ক কমানোর সুযোগও রাখা হয়েছে।

তবে নতুন এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কয়েকটি দেশ এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে একে একতরফা বাণিজ্যনীতি হিসেবে উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে শ্রম অধিকার নিয়ে কাজ করা কিছু সংস্থা বলছে, জোরপূর্বক শ্রম রোধে বৈশ্বিক চাপ তৈরিতে এ ধরনের পদক্ষেপ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে, যদিও একযোগে সব দেশের ওপর শুল্ক আরোপের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে।-

যদিও বাংলাদেশ ১০ শতাংশ শুল্কের আওতায় রয়েছে এবং ভবিষ্যতে শ্রমসংক্রান্ত অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবুও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে নীতিগত ও কূটনৈতিক উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন হতে পারে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular