ঢাকা  সোমবার, ৩রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশনান্দাইলে দুই পক্ষের দ্বন্দে সেচ কার্যক্রম বন্ধ ॥ প্রায় ৫০ একর জমির...

নান্দাইলে দুই পক্ষের দ্বন্দে সেচ কার্যক্রম বন্ধ ॥ প্রায় ৫০ একর জমির আবাদ অনিশ্চিত

জালাল উদ্দিন মন্ডল নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ময়মনসিংহের উপজেলা নান্দাইলের শেরপুর ইউনিয়নের মাদারীনগর গ্রামে একটি গভীর সেচ নলকূপ (ডীপ টিউবওয়েল)কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের দ্বন্দে সেচ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে ওই সেচ স্কীমের আওতায় প্রায় ৫০ একর জমিতে ধান আবাদ করতে না পারায় দিশেহারাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে কৃষকগণ। ওই গভীর নলকূপের মালিকানা দাবিদার মৃত আব্দুল মজিদের পুত্র আবু তাহের গং এবং শেয়ার মালিকানা দাবিদার প্রবাসী সোহেল মিয়া গং এর মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ নিয়ে যেকোন সময় দুই গ্রুপের মধ্যে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটার শঙ্কায় রয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী।

সরজমিন পরির্দশনে দেখা যায়, পুরাতন গভীর নলকূপটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে কৃষকরা পানি না পাওয়ায় প্রায় ৫০ একর জমি পতিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অপরদিকে প্রতিপক্ষ প্রবাসী সোহেল মিয়ার ভাই আবু সাঈদ গং কর্তৃক পুরাতন গভীর নলকূপের পাশেই নতুন আরেকটি নলকূপ স্থাপনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ঘটনায় আবু তাহের একই গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের পুত্র আবু সাঈদ ও মৃত ইয়াসিনের পুত্র মোঃ সিদ্দিক মিয়া গং এর বিরুদ্ধে নলকূপে তালা এবং নিয়ম বহির্ভূত গভীর নলকূপ স্থাপনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে আবু তাহের জানান, তাঁর নিজস্ব জমিতে ২০০৮ সালে ১৮ জনের যৌথ উদ্যোগে এই নলকূপটি স্থাপন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে সকল সদস্যের সম্মতিতে স্থানীয় সুরুজ আলী নামে এক ব্যক্তির নিকট নলকুপটি বিক্রি করে দেওয়া হয়। এর কিছুদিন পর আবু তাহের ও তাঁর পরিবারের লোকজন পুনরায় সুরুজ আলীর কাছ থেকে গভীর নলকূপটি ক্রয় করেন এবং অদ্যাবদি পর্যন্ত সেচ লাইনটির বৈধ অনুমোদন ও বিদ্যুৎ সংযোগ আবু তাহেরের নামেই রয়েছে বলে জানান। তিনি আরও জানান, আবু সাঈদ গংরা মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে সেচ কমিটির কাছ থেকে নতুন নলকূপ স্থাপনের অনুমোদন নেওয়ার পায়তারা করছে। বর্তমানে আমি তাদের হুমকির কারণে নলকূপটি চালু করতে পারছি না।

অপরদিকে প্রতিপক্ষ আবু সাঈদ ও সিদ্দিক গংরা জানান, পুরাতন গভীর নলকূপটি সুরুজ আলীর কাছ থেকে আবু তাহের ও সিদ্দিক মিয়া এবং প্রবাসী সোহেল মিয়া ও মৃত ইছব আলী আকন্দগণ যৌথভাবে ক্রয় করেছিলেন। কিন্তুু আবু তাহের গং পেশীশক্তি প্রয়োগ করে সে একাই তাঁর পরিবারের লোকদেরকে নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত সেচ কার্যক্রম চালিয়ে যান এবং প্রায় ৪০ লাখ টাকা আয় করে আমাদেরকে ঠকিয়ে তা আত্মসাত করেছেন। এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে কিছুদিন আগে আবু তাহের গং কর্তৃক আমরা হামলার শিকার হয়ে গুরতর হই। এ ঘটনায় বিজ্ঞ আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বর্তমানে এলাকার কৃষকের মাঠ বাচাঁতে উপজেলা সেচ কর্তৃপক্ষের বরাবর অনুমোদনের জন্য আবেদনের পর নতুন নলকূপ স্থাপনের কার্যক্রম চালাচ্ছি।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কৃষকগন এ দ্বন্দের বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করে কৃষকদের মাঠ বাচাঁনোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

 

এ ব্যাপারে উপজেলা সেচ কমিটির সদস্য সচিব ও বি এ ডি সি অফিসার আবু রায়হানের সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান বিষয়টি নিয়ে দ্রুত দুপক্ষকে নিয়ে আলোচনা করে নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করব।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular