ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeনারী ও শিশুনারীর প্রতি ডিজিটাল সহিংসতা অবসান: ‘ঢাকা গ্লোবাল পলিসি ডায়ালগ’

নারীর প্রতি ডিজিটাল সহিংসতা অবসান: ‘ঢাকা গ্লোবাল পলিসি ডায়ালগ’

নিউজ ডেস্ক: আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান আজ বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ঢাকায় হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘National stakeholder sitting the multileteral agenda: Towards the Dhaka global policy dialogue on Ending digital @ Facilitated violence against women’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন।

মন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় ডিজিটাল সহিংসতার বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এর প্রতিকার নিয়ে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের সমাজে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা রোধে সকলকে একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে।”

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ‘ঢাকা ডায়ালগ’-কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি অন্যতম প্রধান উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেন; যা অনলাইনে নারীদের দৈনন্দিন নিরাপত্তার সাথে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে সংযুক্ত করেছে।

চলতি বছরের ২০ এপ্রিল আফ্রিকায় শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক দশম ‘ডাকার আন্তর্জাতিক ফোরাম’-এ ‘ঢাকা ডায়ালগ’-এর সূচনা করা হয়। এর লক্ষ্য হলো—সহিংসতার সাধারণ সংজ্ঞা, রাজনৈতিক মনোযোগ, আইনি ও কারিগরি সক্ষমতা, তথ্য-প্রমাণ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ঘাটতিগুলো দূর করা।

এই সংলাপের মাধ্যমে রাষ্ট্রগুলোর জন্য প্রতিরোধ, তদন্ত ও প্রতিকারের বিষয়ে অভিন্ন ভাষা, মানদণ্ড এবং স্বেচ্ছাধীন নির্দেশিকা তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন দেশ যাতে এ সংক্রান্ত ঘটনার প্রতিবেদন তৈরি ও তুলনামূলক বিশ্লেষণ করতে পারে, সেজন্য সহিংসতা বা অপরাধের সাধারণ সংজ্ঞা ও ধরন নির্ধারণের লক্ষ্যও এতে রয়েছে।

এতে প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর অধিকতর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন মানদণ্ড নির্ধারণের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে; যার মধ্যে রয়েছে স্বচ্ছতা, লেবেলিং (চিহ্নিতকরণ) এবং সিন্থেটিক মিডিয়ার (কৃত্রিমভাবে তৈরি ছবি বা অডিও-ভিডিও) উৎস বা উৎপত্তিস্থল শনাক্তকরণ।

বিবৃতিতে বলা হয়, নিয়মিত উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠক এবং সরকারপ্রধান, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের নিয়ে গঠিত ‘পলিটিক্যাল চ্যাম্পিয়ন’ বা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নারীদের বিরুদ্ধে এআই-চালিত সহিংসতার বিষয়টি আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখাও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

এতে আরও বলা হয়, ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে—যাতে তারা এ সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন ও পর্যালোচনা করতে পারে এবং ডিজিটাল প্রমাণ ও এআই ফরেনসিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে পুলিশ, সরকারি কৌঁসুলি ও বিচারকদের প্রশিক্ষণ দিতে পারে।

এছাড়া, এই উদ্যোগের আওতায় ভুক্তভোগীদের সহায়তাকারী হেল্পলাইন শক্তিশালী করা এবং ক্ষতিকর সিন্থেটিক কন্টেন্ট শনাক্ত ও অপসারণে সক্ষম প্রযুক্তির ব্যবহার সহজতর করার পরিকল্পনা রয়েছে; তবে একই সাথে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গোপনীয়তা ও সংখ্যালঘুদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হবে।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল নির্যাতনের ঘটনাগুলো যখন ভৌত জগত থেকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরিত হচ্ছে, তখন এর মোকাবেলায় জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং ভুক্তভোগী-সহায়তা প্রক্রিয়ার ভূমিকার ওপর আলোকপাত করেন।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিদ্যমান আইন ও প্রমাণ সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় থাকা ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এসব ঘাটতির কারণে এআই-চালিত নির্যাতনের তদন্ত ও বিচারকাজ কঠিন হয়ে পড়ে—বিশেষ করে যখন এতে কারসাজি করা ছবি বা কণ্ঠস্বর জড়িত থাকে। সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার জহরাত আদিব চৌধুরী জোর দিয়ে বলেন যে, কোনো ক্ষতি ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর উচিত নকশা বা তৈরির পর্যায় থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা।

তিনি সিন্থেটিক মিডিয়া বা কৃত্রিমভাবে তৈরি বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে স্বচ্ছতাকে একটি ন্যূনতম প্রত্যাশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার আহ্বান জানান।

সংসদ সদস্য ও ‘মায়ের ডাক’-এর প্রতিষ্ঠাতা সঞ্জিদা ইসলাম তুলি এমন সব প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন যারা নির্যাতনের অভিযোগ জানানোর মুহূর্ত থেকেই ভুক্তভোগীদের প্রতি আস্থাশীল আচরণ করবে। তিনি সুসংহত হেল্পলাইন ও অভিযোগ জানানোর এমন ব্যবস্থার আহ্বান জানান, যা ভুক্তভোগীদের এক অফিস থেকে অন্য অফিসে ছোটাছুটি করতে বাধ্য করবে না।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন এবং এই উদ্যোগটি যেসব স্তরে পরিচালিত হবে, তার একটি রূপরেখা তুলে ধরেন।

উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা আইনি ঘাটতি, প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের জবাবদিহি, সিন্থেটিক কনটেন্ট বা কৃত্রিম বিষয়বস্তু ব্যবস্থাপনা এবং ভুক্তভোগীদের সহায়তায় বিভিন্ন দেশের গৃহীত পদক্ষেপ নিয়ে মতবিনিময় করেন।

বিবৃতি অনুযায়ী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরবর্তীতে আগ্রহী জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ‘ফ্রেন্ডস অফ দ্য ডায়ালগ’ (আলোচনার সহযোগী বন্ধুরাষ্ট্র) হিসেবে যুক্ত হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানাবে।

একটি কারিগরি কর্মদলও গঠন করা হবে যারা অভিন্ন সংজ্ঞা ও মানদণ্ড সম্বলিত একটি প্রাথমিক খসড়া দলিল প্রস্তুত করবে; অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সর্বসম্মতিক্রমে এটি গৃহীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই বৃহত্তর উদ্যোগের লক্ষ্য হলো সরকার, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, প্রযুক্তি কোম্পানি, সুশীল সমাজ, শিক্ষাবিদ এবং ভুক্তভোগীদের নেটওয়ার্কগুলোকে একমঞ্চে নিয়ে আসা; পাশাপাশি এআই (AI) ডেভেলপার ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে স্বেচ্ছায় ‘সেফটি-বাই-ডিজাইন’ বা নকশাগত নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি গ্রহণে উৎসাহিত করা।

এসময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন উপস্থিত ছিলেন। তারা এই উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য।”

মন্ত্রী আরও বলেন, “সরকার নারীদের সুরক্ষা এবং তাদের অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা একটি নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ তৈরি করতে কাজ করছি।”

এ ধরনের উদ্যোগগুলো নারীদের ক্ষমতায়ন এবং সমাজে তাদের অবস্থান শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular