The Kathmandu Post এ প্রকাশিত সম্পাদকীয়
ভটেকোশি-ত্রিশূলী নদী করিডোরে ২৬শে আগস্টের বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক। পরিস্থিতি মূল্যায়নের সাথে সাথে এক ক্রমবর্ধমান ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠছে। রাস্তা, স্কুল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মতো অত্যাবশ্যকীয় পরিকাঠামো থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত বাড়িঘর পর্যন্ত, হাজার হাজার সম্পত্তি এই দুর্যোগে মিনিটের মধ্যে ভেসে গেছে, শত শত মানুষের মূল্যবান জীবনের কথা তো বলাই বাহুল্য।
জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের একটি মূল্যায়ন এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে, যেখানে অনুমান করা হচ্ছে যে প্রায় ১৬ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। স্যাটেলাইট ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে ভটেকোশি-ত্রিশূলী করিডোর বরাবর ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে ৪,৬৮৯টি ভবন চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই বন্যায় গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোও ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে: ৪১টি মোটরযান চলাচলের উপযোগী সেতু ভেসে গেছে এবং আরও চারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অন্যদিকে উত্তর সীমান্তের সাথে সংযোগকারী ৪০ কিলোমিটার রাস্তা সম্পূর্ণরূপে ভেসে গেছে। ৬,৯০১ জন শিক্ষার্থীসহ উনিশটি স্কুল হয় ধ্বংস হয়েছে অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অন্যদিকে চারটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ধ্বংস হয়েছে এবং অন্য দুটি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই দুর্যোগ নেপালের জ্বালানি পরিকাঠামোতেও মারাত্মক আঘাত হেনেছে। বারোটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প—যার মধ্যে কিছু চালু এবং কিছু নির্মাণাধীন—ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। মোট ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করতে সময় লাগবে, তবে তা কয়েক বিলিয়ন ডলার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি, সরকারকে মৌলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং তারপর পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের মতো কঠিন কাজও করতে হচ্ছে। বুধবার প্রতিনিধি সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ বলেন, তিনটি বেইলি ব্রিজের কাজ শুরু হয়েছে এবং আরও ২০টি ব্রিজের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে, কারণ সরকার অত্যাবশ্যকীয় পরিকাঠামো ও পরিষেবাগুলো পুনরায় চালু করার জন্য কাজ করছে।
সদনের বৈঠকে তিনি বলেন, প্রত্যেক ব্যক্তির প্রয়োজন মেটানো হবে এবং পুনরুদ্ধার ও পুনর্বাসনের সময় প্রত্যেকের যত্ন নেওয়া হবে। এটি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে, এর জন্য বিপুল পরিমাণ সম্পদের প্রয়োজন।
যে দেশ তার বেশিরভাগ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের অর্থায়নের জন্য দেশীয় ও বৈদেশিক ঋণের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, তার পক্ষে একা সবকিছু স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার ক্ষমতা নেই। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দাতাদের কাছে আবেদন করাই একমাত্র উপায়।
প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের জন্য যে সমর্থন তৈরি হচ্ছে তা অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক। মাত্র এক সপ্তাহের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে ৭ বিলিয়ন রুপিরও বেশি অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে, এর পাশাপাশি ডলার অ্যাকাউন্টে ৬ মিলিয়ন ডলারও জমা হয়েছে।
তবে, এই অর্থ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। জাতীয় পরিকল্পনা কমিশনের প্রাক্তন ভাইস-চেয়ারপার্সন এবং জাতীয় পুনর্গঠন কর্তৃপক্ষের প্রাক্তন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গোবিন্দ রাজ পোখারেলের প্রাথমিক হিসাব যদি সত্যি হয়, তবে এই দুর্যোগ থেকে পুনর্বাসন ও পুনরুদ্ধারের জন্য ভূমিকম্প-পরবর্তী পুনর্গঠনে ব্যয়িত ৬ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি খরচ হবে।
ভূমিকম্পের পরের পরিস্থিতির মতো নয়, অনেক বন্যা দুর্গতদের বাড়িঘর পুনর্নির্মাণের জন্য কোনো জমি নেই। এর জন্য পুরো জনবসতি স্থানান্তর এবং মহাসড়ক ও সেতুগুলির নতুন বিন্যাস প্রয়োজন হবে, যার সবকটিই ব্যয়বহুল হবে।
এই দুর্যোগটি একটি বরফ-পাথরের ধসের কারণে ঘটেছে, এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নও এর একটি সহায়ক কারণ। এই ধরনের জলবায়ু-জনিত দুর্যোগের জন্য নেপালকে দায়ী করা যায় না। প্রধানমন্ত্রী শাহ যেমনটি ঠিকই বলেছেন, এই দুর্যোগ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নেপালকে একটি জোরালো যুক্তি তুলে ধরতে হবে।
নেপালের পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনে সহায়তা করাকে কেবল উদারতার কাজ হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের, বিশেষ করে বিশ্ব উষ্ণায়নে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে অবদান রাখা দেশগুলোর একটি দায়িত্ব।
https://kathmandupost.com/editorial/2026/09/02/support-nepal-s-recovery
জলবায়ু সংকটে নেপালের অবদান নগণ্য, কিন্তু দেশটি এর বিধ্বংসী পরিণতি ভোগ করছে। তাই, দেশটির উচিত আন্তর্জাতিক সহায়তার জন্য জোরালো আবেদন জানানো এবং একই সাথে এটি নিশ্চিত করা যে, প্রাপ্ত সহায়তা যেন দুর্যোগে বিধ্বস্ত জীবন ও সম্প্রদায় পুনর্গঠনে কার্যকরভাবে ও স্বচ্ছভাবে ব্যবহৃত হয়।
অনুবাদ করেছেন: রাকিব উদ্দিন




