নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দীর্ঘদিনের ৫ হাজারের বেশি অডিট আপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তির সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটি।
একই সঙ্গে নদীভাঙন রোধে বারবার অর্থ ব্যয়ের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নদী ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণ, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং গবেষণালব্ধ অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির তৃতীয় বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়।
কমিটির সভাপতি ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া ও মোহাম্মদ কামাল হোসেন অংশ নেন।
বৈঠকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, পাউবো ও পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার (ওয়ারপো) চলমান কার্যক্রম, সমস্যা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হয়। নদী শাসনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, বিপুল পরিমাণ পলি ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত ও মূলধনি ড্রেজিংয়ের কার্যকারিতা মূল্যায়নের সুপারিশ করা হয়।
নাব্যতা রক্ষায় সমন্বিত কৌশল গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে সংকটপূর্ণ এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপন কমানো, ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানো এবং পানির পুনঃব্যবহারের নীতি অনুসরণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। ওয়ারপোর চলমান সমীক্ষা দ্রুত শেষ করে গবেষণা সক্ষমতা বাড়ানোরও সুপারিশ করা হয়।
নদী, খাল ও জলাধার খনন-পুনঃখনন কর্মসূচি বিভিন্ন সংস্থার পৃথক উদ্যোগে না করে সমন্বিত নীতিমালার আওতায় বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ডিএনডি এলাকার জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ও পয়োনিষ্কাশন সমস্যা সমাধানে কার্যকর মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে প্রকল্প বাস্তবায়নে বছরের শুরুতেই প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ, পাউবোর প্রাতিষ্ঠানিক ও কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতাকে গুরুত্ব দিয়ে দেশব্যাপী নদী-খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়।




