ঢাকা  বুধবার, ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeজাতীয়পিলখানা হত্যাযজ্ঞ: বিচারের অপেক্ষায় শহীদ সেনা পরিবারগুলো

পিলখানা হত্যাযজ্ঞ: বিচারের অপেক্ষায় শহীদ সেনা পরিবারগুলো

নিউজ ডেস্ক : পিলখানা হত্যাযজ্ঞের ১৭ বছর কেটে গেছে। নারকীয় সেই বিভীষিকা প্রতি মুহূর্তে তাড়া করলেও বিচারের অপেক্ষায় শহীদ সেনা পরিবারগুলো। চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর গঠিত তদন্ত কমিশন রিপোর্ট দিলেও বাস্তবায়ন না করায় হতাশা আছে তাদের। তবে জাতীয় শহীদ সেনা দিবসে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইফতারে, দ্রুত বিচারসহ সব দাবি তুলে ধরতে চায় শহীদ সেনা অ্যাসোসিয়েশন।

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিদ্রোহ শুরু হলে থামাতে ব্যারাকে ছুটে যান তৎকালীন বিডিআরের ঢাকা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মুজিবুল হক। কিন্তু তাকে ব্রাশফায়ারে হত্যা করে তিনতলা থেকে নিচে ফেলে দেন উচ্ছৃঙ্খল জওয়ানরা।

তখন কর্নেল মুজিবের স্ত্রী নেহরীন ফেরদৌসীও ছিলেন পিলখানায়। চিন্তাও করতে পারেননি তার স্বামীর সঙ্গে ঘটে গেছে এমন নির্মমতা। পুরনো অ্যালবামে প্রতিনিয়ত খুঁজে ফেরেন স্বামীকে।

নেহরীন ফেরদৌসী বলেন, ‘আমরা এর কোনো কারণ জানি না আজও। শুধু গুলি করে হত্যা করা হয়নি। বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়েছে, কারও চোখ উপড়ে ফেলেছে, কারও জিহ্বা কেটে দিয়েছে। এই ফুটেজগুলো যখন আমরা দেখি, তখন প্রচুর প্রশ্ন আসে। এটা থেকে আমরা বের হতে পারিনি, মনে হয় আর পারবোও না।’

আরেক শহীদ মেজর কাজী মোছাদ্দেক হোসেন। তার মেয়ে কাজী নাজিয়া তাবাসসুম মাত্র ৮ বছর বয়সে বাবাকে হারান।

কাজী নাজিয়া তাবাসসুম বলেন, যেকোনো মেয়ে তার বাবাকে হিরো হিসেবে দেখে। আমিও আমার বাবাকে হিরো হিসেবেই দেখতাম। তার হিরোইজমকে রিওয়ার্ডের জন্য তিনি সেদিন যান। কিন্তু সেদিন তার মরদেহ ফেরত আসে! ঘটনাটা অনেক পুরনো। কিন্তু আমাদের চোখে এখনও ভাসে।

বিডিআরের সুবেদার মেজর ছিলেন নুরুল ইসলাম। উত্তেজিত জওয়ানরা যখন সেনা কর্মকর্তাদের হত্যার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তখনই ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তাকেও হত্যা করে জওয়ানরা।

শহীদ সুবেদার মেজর নুরুল ইসলামের ছেলে আশরাফুল আলম হান্নান বলেন, ‘আমার বাবা ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তখন তাকে লোহা দিয়ে পিটিয়ে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে গণকবরে রাখা হয়। পরে ৩ তারিখে আমার বাবার মরদেহ পাই।’

অন্তর্বর্তী সরকারের পর নতুন করে কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি সরকার। এ অবস্থায় বিলম্ব না করে দ্রুত বিচার নিশ্চিতের তাগিদ শহীদ সেনা অ্যাসোসিয়েশনের।

শহীদ সেনা অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কোহিনূর হোসেন বলেন, ১৭ বছরে এই প্রথম আমাদের সঙ্গে কোনো প্রধানমন্ত্রী ইফতার করতে যাচ্ছেন। এটা খুব ভালো লাগছে। কিন্তু আমাদের দাবি তো দুটিই। সেগুলো হলো: শহীদ মর্যাদা দেয়া এবং সঠিক বিচার করা। আরেকটা বিষয় হচ্ছে, কমিশন যেটা ড. মুহাম্মদ ইউনূস করে গেছেন, সেটার রিপোর্টটা যেন প্রকাশ করা হয়।

হত্যাযজ্ঞের দিনটিকে জাতীয় দিবস ঘোষণা করা হলেও ‘গ’ থেকে ‘ক’ ক্যাটাগরিতে রূপান্তরের দাবি শহীদ সেনা অ্যাসোসিয়েশনের।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular