নিউজ ডেস্ক : প্রগতিশীল সাংবাদিকতা ও গণআন্দোলনের সাহসী কণ্ঠধারী একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক মানিক সাহা’র স্মরণে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় বলা হয়, ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠী স্বার্থ চরিতার্থ করতে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) আয়োজন করা হয় এ স্মরণসভা। সৌজন্যে বক্তব্য দেন তাঁর সুহৃদ ও সহকর্মীরা, অনুষ্ঠানে একটি মিনিট নীরবতা পালন করে শুরু করা হয় কর্মসূচিটি।
বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সংবাদপত্র ও স্বাধীন সাংবাদিকতার স্বার্থে নিহত মানিক সাহার স্মরণে আয়োজিত বৈঠকে বক্তারা অভিযোগ করেন, এই হত্যাকাণ্ডটি একক নয়, দেশজুড়ে সাংবাদিক হত্যার শৃঙ্খলাটি যে এখনও ভাঙে নি এবং নেপথ্যে থাকা পৃষ্ঠপোষক ও অর্থদাতা অনাহারে রয়ে গেছে।
সিপিবি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স সরাসরি অভিযুক্ত করে বলেন, “প্রগতিশীল সাংবাদিকতার উত্থান ঠেকাতে মানিক সাহাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে” — এবং বলেন, যে সকল শক্তি এতে জড়িত ছিল তা স্বাধীনতাবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তি বলে তার বিশ্বাস।
স্মরণসভার সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র সাংবাদিক আশীষ কুমার দে; মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান, এবং মূল প্রবন্ধের উপর আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লোক প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. সৈয়দা লাসনা কবির। বক্তৃতায় সিনিয়র সচারাচর সংবাদকর্মী ও নাগরিক সংগঠনের বিভিন্ন নেতারা হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকান্দার হায়াৎ, বিএফইউজে’র সাবেক নির্বাহী সদস্য রফিকুল ইসলাম সবুজ, উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র, এবং ডিইউজের সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাকিলা পারভীন, সংযুক্ত থেকে মানিক সাহার ন্যায়বিচারের আহ্বান জানান।
বক্তারা স্মরণসভায় জোর দিয়ে বলেন, শুধু মামলাটির পুনঃতদন্তই নয়, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীন সংবাদ-চর্চা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
তারা উল্লেখ করেন, মানিক সাহার খুন-পরবর্তী বছরের অসংখ্য অনুরোধ সত্ত্বেও তদন্ত-প্রক্রিয়ায় ধীরগতি ও অভিযোগ-নিষ্পত্তিতে অনীহা দেখা গেছে। ফলে অপরাধীদের পৃষ্ঠপোষকরা ছাড় পেয়ে আসছে।
সম্মিলিতভাবে বক্তারা সরকারের কাছে তৎপর পুনঃতদন্ত, দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন এবং স্বাধীন সাংবাদিকতা রক্ষার জন্য নাগরিক-সংগঠন ও সাংবাদিক সমিতিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে নামতে আহ্বান জানান। তারা সতর্ক করে বলেন, যদি বিচার না হয় তবে দেশের গণমাধ্যমে প্রকাশ্যে হয়রানি ও সন্ত্রাসের সংস্কৃতি চলতে থাকবে, যা গণতন্ত্রের জন্য বড় সংকট।
মানিক সাহার মতো সাংবাদিকরা যারা সত্য প্রকাশের দায়শীলতা নিঃস্বার্থভাবে পালন করেছেন, তাদের প্রতি রাষ্ট্র ও সমাজের দায়বদ্ধতা বাড়াতে হবে। বক্তারা শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে, দ্রুত ও কার্যকর অনুসন্ধান চলে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে—এটিই তাদের মূল দাবি ও প্রত্যাশা।
ঢাকানিউজ২৪/মহফ




