নিউজ ডেস্ক : ব্রিটেনের সর্বকালের সেরা ক্রীড়াবিদদের একজন, স্যার মো ফারাহ, এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে তিনি তার পরিবার নিয়ে কাতার চলে গেছেন। কারণ হিসেবে তিনি লন্ডনের ক্রমবর্ধমান অপরাধ, বিশেষ করে ছুরি হামলার ঘটনাকে দায়ী করেছেন। তিনি মনে করেন, তার চার সন্তানের জন্য লন্ডনের চেয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি অনেক বেশি নিরাপদ।
সাক্ষাৎকারের জানান, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং কাতারকে বেছে নেওয়া।
স্যার মো ফারাহ বলেন, “আমার বাচ্চারা লন্ডনের চেয়ে কাতারে অনেক বেশি নিরাপদ।” তিনি লন্ডনে একা একা হাঁটাচলা করতেও ভয় পান বলে উল্লেখ করেন।
একজন বাবা হিসেবে, তার সন্তানদের নিরাপত্তা তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। লন্ডনের অপরাধের হার, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে সহিংসতা তাকে এতটাই উদ্বিগ্ন করেছে যে তিনি দেশত্যাগের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি বলেন, কাতারে তিনি যে মানসিক শান্তি এবং নিরাপত্তা পান, তা লন্ডনে পান না।
এই ক্রীড়াবিদদের মর্মান্তিক শৈশবকালে কথায়। সাক্ষাৎকারে তিনি তার শৈশবের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তাকে শিশুকালে সোমালিয়া থেকে অবৈধভাবে ব্রিটেনে পাচার করে আনা হয়েছিল এবং জোর করে পরিচারকের কাজ করানো হয়েছিল।
এই আঘাতমূলক অভিজ্ঞতা তাকে সারাজীবন তাড়া করে বেড়িয়েছে। নিজের জীবনে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার অভাব থাকার কারণেই তিনি তার সন্তানদের জন্য একটি সম্পূর্ণ নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে চান।
মো ফারাহ লন্ডন ২০১২ অলিম্পিকে দুটি সোনা জিতেছিলেন।
স্যার মো ফারাহ মনে করেন, এই গেমসের পর ব্রিটেনে খেলাধুলাকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার এবং নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা পূরণ হয়নি।
তিনি বলেন, স্কুলগুলোতে খেলাধুলার সুযোগ কমে গেছে এবং সরকারি তহবিলের অভাবে অনেক প্রতিভা হারিয়ে যাচ্ছে। এই ব্যর্থতা নিয়ে তিনি তীব্র হতাশা প্রকাশ করেন।
স্যার মো ফারাহ স্বীকার করেন যে ব্রিটেন তাকে একটি সুযোগ দিয়েছে এবং তার সাফল্যের পেছনে এই দেশের মানুষের অবদান অনেক। তিনি ব্রিটেনের প্রতি কৃতজ্ঞ।
তবে, একই সাথে তিনি দেশের সামাজিক সমস্যা, নিরাপত্তা সংকট এবং খেলাধুলার প্রতি সরকারের উদাসীনতা নিয়েও হতাশ। তার এই সাক্ষাৎকারটি ব্রিটেনের প্রতি তার ভালোবাসা এবং হতাশার এক জটিল মিশ্রণকে তুলে ধরে।-
এই সাক্ষাৎকারটি কেবলমাত্র একজন ক্রীড়াবিদের ব্যক্তিগত মতামত ছিল না, বরং এটি ব্রিটেনের বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতি এবং একজন অভিবাসী হিসেবে তার অভিজ্ঞতার একটি শক্তিশালী প্রতিফলন। একজন বাবা হিসেবে তার উদ্বেগ, একজন পাচারের শিকার হিসেবে তার মানসিক যন্ত্রণা এবং একজন কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদ হিসেবে তার হতাশা—এই সবকিছুই তার বক্তব্যে ফুটে উঠেছে।
সূত্র : দি টেলিগ্রাফ



