ঢাকা  রবিবার, ১১ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ২৫শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅপরাধঅতিথি পাখি শিকার বন্ধে জরুরি উদ্যোগ

অতিথি পাখি শিকার বন্ধে জরুরি উদ্যোগ

নিউজ ডেস্ক : দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নির্বিচারে অতিথি পাখি শিকারের নতুন দুঃসংবাদ পাওয়া যাচ্ছে। চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সুটিয়া–শ্রীরামপুর সড়কের পূর্ব পাশে অবস্থিত চেচোগাড়ি বিল একসময় ছিল অতিথি পাখির নিরাপদ আবাসস্থল। কিন্তু এখন বিলটির প্রাণচাঞ্চল্য প্রায় নেই বললেই চলে। ধীরে ধীরে মৃতপ্রায় হয়ে যাওয়া এই জলাভূমিতে ধান চাষ বেড়েছে, জলাভাব দেখা দিয়েছে, আর সবচেয়ে উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে পাখি নিধন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সুটিয়া গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে রেজাউল নামের এক ব্যক্তি শীত মৌসুমে প্রায় তিন মাস ধরে বিলের বিভিন্ন স্থানে কারেন্ট জাল পেতে পাখি শিকার করেন। জালের পাশে সাদা পলিথিনের তৈরি অস্থায়ী তাবু বসিয়ে তিনি নিয়মিত শিকার কাজে অবস্থান করেন। এতে স্থানীয় পরিবেশবান্ধব প্রজাতি—ফিঙ্গেরাজা, শালিক, পানকৌড়ি, বালিহাঁসসহ অগণিত পাখি মৃত্যুর ফাঁদে আটকা পড়ে। ফলে বিলের জৈববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

পরিবেশবিদদের মতে, অতিথি পাখি শুধু জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশই নয়, কৃষি ব্যবস্থার জন্যও অত্যন্ত উপকারী। পাখিরা ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে ফসল রক্ষা করে এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে। এ কারণে এসব পাখির আগমন গ্রামীণ পরিবেশে সৌন্দর্য ও প্রাণবন্ততা যোগ করে। কিন্তু লাগামহীন শিকার কর্মকাণ্ড পুরো একটি পরিবেশব্যবস্থা ধ্বংস করে দিতে পারে।

স্থানীয় সচেতন মহল জানিয়েছে, চেচোগাড়ি বিলকে আবার আগের মতো পাখির আশ্রয়স্থল হিসেবে ফিরিয়ে আনতে হলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের দাবি—প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সমন্বিত অভিযান চালিয়ে অবৈধ কারেন্ট জাল সংগ্রহ ও ধ্বংস করতে হবে, শিকারিদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল-আমীন বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “যারা অতিথি পাখি কিংবা দেশীয় প্রজাতির পাখি শিকার করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

চুয়াডাঙ্গার পাশাপাশি খুলনার পাইকগাছা উপজেলাতেও পাখি শিকারের একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে জেলাজুড়ে বিভিন্ন স্থানে অভিনব পদ্ধতিতে ফাঁদ পেতে পাখি ধরার উৎসব চলছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। সেখানে রাতের আঁধারে জাল, ফাঁদ ও আলোর প্রলোভন তৈরি করে অতিথি পাখিদের আটকানো হচ্ছে, যা পরিবেশের জন্য বড় হুমকি।

সচেতন মহলের দাবি—দুই অঞ্চলের এই পরিস্থিতি অবিলম্বে বন্ধ না হলে অতিথি পাখির বিলুপ্তির ঝুঁকি আরও বাড়বে। তাই এখনই সময় শক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার।

ঢাকানিউজ২৪/মহফ

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular