ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeকৃষিফলের ভেতর থেকে বীজ হারিয়ে যাচ্ছে

ফলের ভেতর থেকে বীজ হারিয়ে যাচ্ছে

হক মোঃ ইমদাদুল, জাপান:

ফল খেতে বসে বীজ নিয়ে ঝামেলা পোহাতে হয় না-ভোক্তার কাছে এর চেয়ে আরামদায়ক আর কী হতে পারে। আঙুর, ম্যান্ডারিন কমলা, লেবু কিংবা পার্সিমন (কাকী ফল) এর কিছু জাত এখন এমনভাবে উৎপাদিত হচ্ছে, যাতে ফলের ভেতরে বীজ না থাকে, অথবা থাকলেও তা খুব সামান্য। বিশেষ করে জাপানে এ ধরনের ফলের জাত ও চাষপদ্ধতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চলছে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, ফলের বীজ গেল কোথায়? বীজ আলাদা করে তুলে ফেলা হচ্ছে না। কোনো কোনো ফলের বীজহীনতা জাতের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। আবার কিছু ফলের ক্ষেত্রে ফুল থেকে ফল গঠনের নির্দিষ্ট পর্যায়ে উদ্ভিদ হরমোন প্রয়োগ করে বীজের স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত করা যায়। ফলে বীজ ছাড়াই ফল তৈরি হতে পারে, অথবা বীজ তৈরি হলেও তা পূর্ণতা পায় না। তবে সব বীজহীন ফল একইভাবে তৈরি হয় না। কোনো ফল স্বাভাবিকভাবেই বীজহীন, কোনো ফলে বীজের সংখ্যা খুব কম, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিশেষ চাষপদ্ধতি প্রয়োগ করে বীজহীনতা তৈরি করা হয়।

একটি আঙুরের পেছনে প্রায় দুই দশকের গবেষণা

জাপানের শাইন মাসকাট আঙুর এর একটি ভালো উদাহরণ। বড় দানা, মিষ্টি স্বাদ, সুগন্ধ, আকর্ষণীয় রং এবং খোসাসহ খাওয়ার সুবিধার কারণে এটি ভোক্তার কাছে জনপ্রিয়। বীজহীন অবস্থায় উৎপাদন করা যায়-এটিও এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তবে এই আঙুরের সাফল্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক তার স্বাদ বা চেহারা নয়; এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ গবেষণা। শাইন মাসকাট তৈরির জন্য সংকরায়নের কাজ শুরু হয় ১৯৮৮ সালে। এরপর একের পর এক গাছ নির্বাচন, মাঠপর্যায়ে পরীক্ষা, ফলের গুণমান যাচাই এবং বিভিন্ন এলাকায় উৎপাদনক্ষমতা মূল্যায়ন করা হয়। ২০০৬ সালে জাতটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়।

অর্থাৎ একটি নতুন ফলের জাত তৈরি করতে লেগেছে প্রায় দুই দশক। এই দীর্ঘ সময়ে শুধু ফলটি মিষ্টি কি না, তা দেখা হয়নি। গাছের বৃদ্ধি, ফলন, ফলের আকার, স্বাদ, গন্ধ, রোগসহনশীলতা, সংরক্ষণক্ষমতা এবং চাষের সুবিধাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। পরে বীজহীন ফল উৎপাদনের জন্য নির্দিষ্ট চাষপদ্ধতিও উন্নত করা হয়েছে। এখানে কৃষি গবেষণার একটি মৌলিক সত্য সামনে আসে-ফলের নতুন জাত তৈরি করা এক মৌসুমের কাজ নয়।

বীজহীনতা কীভাবে আসে

শাইন মাসকাটের মতো আঙুর বীজহীন অবস্থায় উৎপাদনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ে জিবেরেলিক অ্যাসিড নামের উদ্ভিদ হরমোন ব্যবহার করা হয়। এর ফলে ফল তৈরির স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসে এবং বীজের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। অর্থাৎ ফলের ভেতর থেকে বীজ তুলে ফেলা হচ্ছে না; বরং ফল তৈরির প্রক্রিয়াকেই এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, যাতে বীজ তৈরি না হয় বা পূর্ণতা না পায়। তবে সব বীজহীন ফলের ক্ষেত্রে একই পদ্ধতি কাজ করে না। কোনো কোনো ফলের বীজহীনতা জাতের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য, আবার কোনো ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট চাষপদ্ধতির মাধ্যমে বীজের বিকাশ বন্ধ রাখা হয়। তাই কৃষিবিজ্ঞানের লক্ষ্য শুধু বীজ কমানো নয়। কোন বৈশিষ্ট্যের কারণে একটি ফলে বীজ কমছে বা তৈরি হচ্ছে না, সেটি বোঝার পাশাপাশি সেই বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে ভালো স্বাদ, বেশি ফলন, রোগপ্রতিরোধ বা অন্য কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য যুক্ত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

ভোক্তার সুবিধাও এখন জাত উন্নয়নের অংশ

একসময় ফলের নতুন জাত তৈরির প্রধান লক্ষ্য ছিল ফলন বাড়ানো। এখন সেই ধারণা বদলেছে। ভোক্তা কী চান, সেটিও জাত উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা। ফল খেতে সহজ হবে, বীজ কম থাকবে, দেখতে আকর্ষণীয় হবে, স্বাদ ও গন্ধ ভালো হবে-এসব যেমন বিবেচনায় রাখা হয়, তেমনি ফল কত দিন ভালো থাকবে, দূরের বাজারে পাঠানো যাবে কি না এবং কৃষকের উৎপাদন খরচের তুলনায় আয় কেমন হবে, সেটিও দেখা হয়। অর্থাৎ ভালো ফল শুধু সুস্বাদু হলেই হয় না। এমন ফলের জাত তৈরি করতে হয়, যা ভোক্তার পছন্দের, কৃষকের জন্য লাভজনক এবং বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বীজ শুধু ভোক্তার অসুবিধা নয়

বীজহীন ফলের সুবিধা আছে। কিন্তু বীজকে শুধু একটি বিরক্তিকর অংশ হিসেবে দেখলে কৃষির গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক বাদ পড়ে যায়। বীজ উদ্ভিদের বংশবিস্তারের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম তৈরি হয় এবং বংশগত বৈচিত্র্যও বজায় থাকে। এই বৈচিত্র্যের কারণেই কোনো কোনো উদ্ভিদ রোগ, পোকামাকড়, খরা, অতিরিক্ত তাপ কিংবা পরিবেশের অন্য পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করতে পারে। অন্যদিকে কলম বা অন্যান্য অযৌন পদ্ধতিতে একই জাতের গাছ বিপুল পরিমাণে তৈরি করা যায়। এতে একই মানের ফল পাওয়া সহজ হয়। কিন্তু কোনো রোগ বা পরিবেশগত সমস্যা দেখা দিলে একই বংশের গাছগুলো একসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিও থাকে। তাই উন্নত জাত তৈরি করার পাশাপাশি স্থানীয় ও পুরোনো জাত সংরক্ষণ করাও জরুরি।

বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা কোথায়

বাংলাদেশ ফলের বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। আম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, লেবু, কুল, আনারস, কলা, পেঁপে, তরমুজসহ বহু ফলের স্থানীয় জাত রয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এমন অনেক পুরোনো জাতও আছে, যেগুলোর বৈশিষ্ট্য কৃষকেরা জানেন; কিন্তু সেগুলোর পূর্ণ বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন এখনও প্রয়োজন।

আমের কথাই ধরা যাক। নতুন জাত তৈরির লক্ষ্য শুধু ফলন বাড়ানো হলে চলবে না। ছোট আঁটি, কম আঁশ, বেশি শাঁস, ভালো স্বাদ, আকর্ষণীয় রং, রোগপ্রতিরোধ, নিয়মিত ফলন এবং দূরের বাজারে পরিবহনের উপযোগিতাও বিবেচনায় রাখতে হবে। সম্পূর্ণ বীজহীন আম তৈরি করা সম্ভব হলে সেটি অবশ্যই বড় সাফল্য হবে। তবে তার চেয়েও বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হতে পারে এমন আমের জাত তৈরি করা, যার আঁটি ছোট এবং খাওয়ার অংশ বেশি। ভোক্তার জন্য এতে সুবিধা বাড়বে, কৃষকও একই পরিমাণ ফল থেকে বেশি বিক্রিযোগ্য অংশ পাবেন। কাঁঠালের ক্ষেত্রেও শুধু বীজ বাদ দেওয়ার চিন্তা না করে আরও অনেক বৈশিষ্ট্য একসঙ্গে বিবেচনা করা যায়। বেশি কোয়া, বেশি খাওয়ার অংশ, তুলনামূলক ছোট বীজ, কম আঠা, ভালো স্বাদ, রোগপ্রতিরোধ এবং সংরক্ষণক্ষমতা-সবই একটি উন্নত জাতের বৈশিষ্ট্য হতে পারে।

লেবুর ক্ষেত্রেও বীজহীন বা অল্পবীজের বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণার সুযোগ রয়েছে। কোনো গাছে বীজ কম পাওয়া গেলেই গবেষণা শেষ হয়ে যায় না। বরং তখনই নতুন প্রশ্ন সামনে আসে-কোন বংশগত বৈশিষ্ট্যের কারণে বীজ কমছে? সেই বৈশিষ্ট্য কি অন্য উন্নত জাতের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব? একই সঙ্গে ফলন, রসের পরিমাণ, স্বাদ, সুগন্ধ ও রোগপ্রতিরোধ বাড়ানো যায় কি না?

একটি ভালো গাছ খুঁজে পাওয়া গবেষণার শেষ নয়; বরং সেখান থেকেই শুরু হতে পারে আরও ভালো জাত তৈরির কাজ।

সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ জলবায়ু

বাংলাদেশের ফল গবেষণার ভবিষ্যৎ শুধু বীজহীনতা বা ফলের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য উন্নয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও এখন থেকেই বিবেচনায় নিতে হবে। তাপমাত্রা বাড়ছে, বৃষ্টিপাতের ধরন বদলাচ্ছে। কোথাও অতিবৃষ্টি, কোথাও দীর্ঘ খরা; উপকূলীয় অঞ্চলে বাড়ছে লবণাক্ততার চাপ। ফলে আগামী দিনের ফলের জাত শুধু মিষ্টি বা বড় হলেই চলবে না। পরিবর্তিত পরিবেশেও তাকে টিকে থাকতে হবে এবং নিয়মিত ফলন দিতে হবে। এ কারণেই স্থানীয় পুরোনো জাতগুলোর গুরুত্ব বাড়ছে। কোনো জাত হয়তো বাজারে খুব জনপ্রিয় নয়, কিন্তু প্রচণ্ড গরম সহ্য করতে পারে। কোনো স্থানীয় লেবুর ফলন কম হলেও নির্দিষ্ট রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ থাকতে পারে। কোনো পুরোনো কাঁঠালের জাত হয়তো আকারে ছোট, কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়াতেও ফলন ধরে রাখতে পারে। এই বৈশিষ্ট্যগুলোই ভবিষ্যতের উন্নত জাত তৈরিতে কাজে লাগতে পারে। তাই নতুন জাত উদ্ভাবনের পাশাপাশি স্থানীয় ও পুরোনো জাত সংরক্ষণও সমান গুরুত্ব দিয়ে চালিয়ে যেতে হবে।

গবেষণাকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে

ফলগাছের গবেষণার সবচেয়ে বড় বিষয় হলো সময়। একটি গাছ বড় হতে হয়, ফুল ও ফল আসতে হয়। এরপর ফলের মান যাচাই করতে হয় এবং বিভিন্ন পরিবেশে গাছটির উৎপাদনক্ষমতা পরীক্ষা করতে হয়। তাই দুই-তিন বছরের কোনো প্রকল্পের মধ্যে একটি নতুন ফলের জাত তৈরির কাজ শেষ করা বাস্তবসম্মত নয়। গবেষণার অর্থায়নও এমন হওয়া দরকার, যাতে একটি প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজ থেমে না যায়। একটি গবেষকদল যে কাজ শুরু করেছে, পরবর্তী দল যেন সেখান থেকেই গবেষণা এগিয়ে নিতে পারে। এর জন্য ধারাবাহিক অর্থায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা পরিকল্পনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গবেষণাগার ও কৃষকের জমির মধ্যে দূরত্ব কমাতে হবে। গবেষণায় তৈরি নতুন জাত মাঠে পরীক্ষা হবে, কৃষকের অভিজ্ঞতা ও সমস্যাগুলো আবার গবেষণায় ফিরে আসবে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে জাত বা চাষপদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা যাবে।

গবেষণার ফল শেষ পর্যন্ত কৃষকের জমিতে পৌঁছাতে না পারলে, তার বাস্তব মূল্যও সীমিত থেকে যায়।

রপ্তানির কথা শুরু থেকেই ভাবতে হবে

বাংলাদেশের ফলের বাজার শুধু দেশের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকবে-এমনটি হওয়ার কথা নয়। বিদেশে ফল পাঠাতে হলে যে বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলো জাত তৈরির সময় থেকেই বিবেচনায় নিতে হবে। একটি ফল দেখতে সুন্দর হলেই বিদেশের বাজারে টিকে থাকা যায় না। ফলের আকার ও মানে সামঞ্জস্য থাকতে হয়, রোগবালাই থেকে মুক্ত রাখতে হয়, দূরের পথে পরিবহনের সময় যেন নষ্ট না হয় এবং কিছুদিন সংরক্ষণ করেও যেন তার স্বাদ ও মান ঠিক থাকে। এসব বৈশিষ্ট্য জাতের মধ্যেই থাকা দরকার। তাই শুধু বীজ কম বা বীজহীন ফল তৈরি করাই যথেষ্ট নয়। এমন জাত তৈরি করতে হবে, যা ভোক্তার পছন্দের, কৃষকের জন্য লাভজনক এবং দূরের বাজারে পাঠানোর উপযোগী।

অর্থাৎ লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু বীজহীন ফল নয়, উন্নত ফল-যার স্বাদ ভালো, ফলন বেশি, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা আছে, পরিবর্তিত আবহাওয়ায় টিকে থাকতে পারে এবং কৃষককে ভালো দাম এনে দিতে পারে। বাংলাদেশের ফল গবেষণায় এই দৃষ্টিভঙ্গি যত আগে যুক্ত হবে, ভবিষ্যতে রপ্তানির সম্ভাবনাও তত বাড়বে।

শেষ কথা

ফলের ভেতর থেকে বীজ হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আসলে শুধু বীজহীন ফল তৈরির গল্প নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নতুন জাত উদ্ভাবন, ভোক্তার চাহিদা, কৃষকের লাভ এবং ভবিষ্যতের বাজার। একটি ফলের জাত ভালো কি না, তা এখন শুধু ফলনের ওপর নির্ভর করে না। ফলটি খেতে কতটা সহজ, স্বাদ ও মান কেমন, কত দিন সংরক্ষণ করা যায়, দূরের বাজারে পাঠানোর পরও কতটা ভালো থাকে এবং পরিবর্তিত আবহাওয়ায় গাছটি কতটা টিকে থাকতে পারে-এসব বিষয়ও বিবেচনায় রাখতে হয়।

জাপানের অভিজ্ঞতা দেখায়, ভালো একটি ফলের জাত তৈরি করতে সময় লাগে। বছরের পর বছর গবেষণা, মাঠপর্যায়ে পরীক্ষা এবং ধারাবাহিক অর্থায়নের মধ্য দিয়েই একটি জাত শেষ পর্যন্ত কৃষকের জমি ও বাজারে জায়গা করে নেয়।

বাংলাদেশেরও সেই সম্ভাবনা আছে। আমাদের রয়েছে বৈচিত্র্যময় ফল ও বহু স্থানীয় জাত, আর রয়েছে কৃষকের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও কৃষিবিজ্ঞানীদের কাজ করার সক্ষমতা। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং গবেষণাকে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেওয়া।

আজ যে স্থানীয় ফলের জাতটি হয়তো খুব বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে না, তার মধ্যেই থাকতে পারে ভবিষ্যতের কোনো গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য-তীব্র তাপ সহ্য করার ক্ষমতা, রোগপ্রতিরোধ কিংবা কম পানিতে ফলন দেওয়ার সক্ষমতা। তাই নতুন জাত তৈরির পাশাপাশি পুরোনো জাত সংরক্ষণও জরুরি। বীজ কমানো বা বাদ দেওয়া ভোক্তার জন্য সুবিধা হতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের কৃষির ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজন এমন ফলের জাত, যা একই সঙ্গে ভালো ফলন দেবে, কৃষককে লাভবান করবে, ভোক্তার চাহিদা পূরণ করবে এবং বদলে যাওয়া পরিবেশেও টিকে থাকবে।

প্রশ্ন তাই শুধু বীজ থাকবে কি না, তা নয়। প্রশ্ন হলো, আগামী দিনের ফল কেমন হবে- সেই সিদ্ধান্ত আজ আমরা কতটা বিজ্ঞানভিত্তিকভাবে নিতে পারছি।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular