নিউজ ডেস্ক : রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থীরা। এতে ফার্মগেট মোড়, খামারবাড়ি, বিজয় সরণি ও আশপাশের সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজট ও ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। রোববার সকাল পৌনে ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েক শত শিক্ষার্থী ফার্মগেট মোড়সহ আশপাশের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। তাদের কারণে ওই এলাকায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অফিসগামী মানুষসহ সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
জানা গেছে, গত বছরের ৬ ডিসেম্বর রাতে তেজগাঁও কলেজের ছাত্রাবাসে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত হন কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিবুল হাসান রানা (১৮)। আহত হওয়ার চার দিন পর, ১০ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এই ঘটনার পর থেকেই সাকিবুল হাসান রানার সহপাঠীরা দোষীদের বিচারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। এর আগেও একাধিকবার একই দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থীরা। আজও বিচারের দাবিতে তারা ফার্মগেট এলাকায় সড়ক অবরোধ করেছেন।
এদিকে সড়ক অবরোধের কারণে ফার্মগেট, তেজগাঁও ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। যানজটে আটকে পড়া যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
হাসান আরিফ নামে ব্যক্তি বলেন, ‘মোহাম্মদপুর থেকে তেজগাঁওয়ে অফিসে যাচ্ছিলাম। খামারবাড়ি এসে দেখি, যানবাহন সব স্থবির হয়ে পড়েছে। পরে জানলাম সড়ক অবরোধ করা হয়েছে। উপায় না পেয়ে বিজয় সরণি হয়ে অফিসে আসার চেষ্টা করি। কিন্তু সেখানেও তীব্র যানজটে আটকে থাকতে হয়েছে। প্রায় ঘণ্টাখানেক সময় লেগেছে ফার্মগেট থেকে তেজগাঁও অফিসে পৌঁছাতে।’
রাজধানীর কাজীপাড়া থেকে শাহবাগে যাচ্ছিলেন ফাতেমা আক্তার নামে এক নারী। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে আমার রোগী রয়েছে। তার জন্য সকালের খাবার নিয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু সড়ক অবরোধের কারণে বিজয় সরণি থেকে গাড়ি যেন আর চলছেই না। সঙ্গে ছোট বাচ্চা থাকায় হেঁটেও যেতে পারছি না। ওদিকে সঠিক সময়ে না পৌঁছালে রোগীকে খাওয়াতে পারব না।’
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ক্যশৈন্যু মারমা সমকালকে বলেন, ‘তেজগাঁও কলেজের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলে সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে চেষ্টা করছি।’



