বিচিত্র ডেস্ক: হংকং থেকে লন্ডনগামী ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। ৬০ বছর বয়সী এক নারী যাত্রী বিমানটি ওড়ার কিছুক্ষণ পরই মারা যান। এরপর বাকি ১৩ ঘণ্টার দীর্ঘ যাত্রাপথে তার মরদেহটি বিমানের পেছনের একটি অংশে রাখা হয়েছিল। ঘটনাটি গত ১৫ মার্চের।
ফক্স নিউজের তথ্যমতে, এয়ারবাসটি হংকং থেকে উড্ডয়নের মাত্র এক ঘণ্টা পরেই ওই নারীর মৃত্যু হয়।
বিমানে ওই যাত্রীর মৃত্যু হওয়া সত্ত্বেও পাইলটরা হংকংয়ে ফিরে না গিয়ে বা অন্য কোথাও বিমানটি জরুরি অবতরণ না করিয়ে সরাসরি লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরের দিকেই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এর কারণ হলো, বিমানে কোনো যাত্রীর মৃত্যু হলে সেটিকে সাধারণত আর মেডিকেল ইমারজেন্সি (চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা) হিসেবে গণ্য করা হয় না।
একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়, ‘স্বাভাবিকভাবেই ওই নারীর সঙ্গে থাকা পরিবারটি অত্যন্ত শোকগ্রস্ত ছিল এবং ক্রু সদস্যরাও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। অনেকেই চেয়েছিলেন বিমানটি যেন হংকংয়ে ফিরে যায়।’
ক্রু সদস্যরা শুরুতে মরদেহটি বিমানের একটি শৌচাগারে রাখার কথা বিবেচনা করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনাটি বাতিল করা হয়। পরে মরদেহটি ভালোভাবে মুড়িয়ে বিমানের পেছনের দিকের একটি গ্যালিতে (যেখানে খাবার প্রস্তুত বা রাখা হয়) সরিয়ে নেন এবং সেখানেই বাকি পথ রাখা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যে গ্যালিতে মরদেহটি রাখা হয়েছিল সেটির মেঝে ছিল উত্তপ্ত। দীর্ঘ ১৩ ঘণ্টা পর বিমানটি যখন লন্ডনের কাছাকাছি পৌঁছায়, তখন ৩৩১ জন যাত্রী এবং ক্রু সদস্যদের অনেকেই বিমানের ওই নির্দিষ্ট অংশ থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার কথা জানান।
বিমানটি হিথ্রো বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর পুলিশ সদস্যরা বিমানে ওঠেন। তদন্ত চলাকালীন প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে সব যাত্রীকে তাদের নিজ নিজ আসনে বসে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে ফক্স নিউজ ডিজিটালকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুযায়ী সমস্ত নিয়ম যথাযথভাবে পালন করেছে।
বিমানে মৃত্যু সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা:
মাঝ আকাশে কোনো যাত্রীর মৃত্যু হলে তা সামলানোর জন্য ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইএটিএ) নির্দিষ্ট কিছু নীতিমালা রয়েছে।
সাধারণত মরদেহটি একটি বডি ব্যাগে রাখা হয় অথবা কম্বল দিয়ে গলা পর্যন্ত ঢেকে দেওয়া হয়।
সম্ভব হলে মরদেহটিকে বিমানের এমন একটি অংশে সরিয়ে নেওয়া হয় যেখানে সাধারণ যাত্রীদের নজর কম পড়ে। হতে পারে এটা কোনো খালি আসন বা আলাদা সেকশন।
তবে বিমানটি যদি পুরোপুরি ভর্তি থাকে, সেক্ষেত্রে মরদেহটি তার আগের আসনেই রাখা হতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি




