শিক্ষা ডেস্ক: ১৮৫৫ সালের ১৩ই এপ্রিল অর্থাৎ আজকের দিনে পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয়ের বর্ণপরিচয় প্রথম ভাগ প্রকাশিত হয়।
বর্ণপরিচয় প্রাথমিক স্তরের শিশুশিক্ষা গ্রন্থ। শিশুদের বাংলা ভাষা শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিজ্ঞানসম্মত ভাবে রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে এটিই প্রথম।
গ্রন্থটির ” প্রথম ভাগে ” স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জণবর্ণ, এবং তার সঙ্গে বিভিন্ন শব্দ ও বাক্যগঠন এবং অনুচ্ছেদ আকারে রচিত মোট একুশটি পাঠ আছে।
গ্রন্থটির দ্বিতীয় ভাগে সংযুক্ত বর্ণের ব্যবহার দ্বারা শব্দ ও বাক্য গঠন, ফলাযোগে নানা শব্দসৃষ্টি, অঙ্কে ও কথায় সংখ্যা গণনা এবং উপদেশধর্মী ছোট ছোট রচনা মিলে মোট দশটি পাঠ আছে।
১৮৫৫ সালের ১৪ই জুন প্রকাশিত হয় বর্ণপরিচয়ের দ্বিতীয় ভাগ। তখনকার দিনে দুই পয়সা মূল্য ধার্য হয়েছিল বই দুটির জন্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে সেই সময় প্যারীচরণ সরকার এবং বিদ্যাসাগর মহাশয় দু’জনে মিলে ঠিক করেন যে তাঁরা দু’জনে ইংরেজি ও বাংলায় বর্ণশিক্ষা বিষয়ক প্রাথমিক পুস্তিকা লিখবেন।
সেইমতো প্যারীচরণ “ফারসট বুক অফ রিডিং” এবং বিদ্যাসাগর ‘বর্ণপরিচয় প্রথম ভাগ’ প্রকাশ করেন।” বিহারীলাল সরকারের রচনা থেকে জানা যায় যে মফস্বলে স্কুল পরিদর্শনে যাওয়ার সময় পালকিতে বসেই বর্ণপরিচয়ের পাণ্ডুলিপি তৈরি করেছিলেন বিদ্যাসাগর।
১৮৫৫ থেকে বিদ্যাসাগরের মৃত্যুর আগে পর্যন্ত (১৮৯১) মোট ৩৫ বছরে বর্ণপরিচয় প্রথম ভাগের ১৫২টি মুদ্রণ সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে।
এই বইয়ের প্রথম সংস্করণ ছাপা হয়েছিল ৩ হাজার কপি। দুই ভাগে লেখা এই যুগান্তকারী পুস্তিকার প্রকাশ বাংলার শিক্ষাজগতে এক সুদূরপ্রসারী ঘটনার সূত্রপাত ঘটে।
/সৈয়দা শিরীন/




