নিউজ ডেস্ক : ইউরোপীয় ফুটবলে বারবার বর্ণবাদী ঘটনার কারণে সৃষ্ট উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই রিয়াল মাদ্রিদ একটি অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত নিয়ে ডিফেন্ডার ডিন হুইসেনের পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রকাশ করেছে। কারণ তিনি সামাজিক মাধ্যমে এশীয় সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে আপত্তিকর কনটেন্ট শেয়ার করেছিলেন।
রিয়াল মাদ্রিদের এই পদক্ষেপটি এসেছে এক সংবেদনশীল সময়ে। ক্লাবটি সম্প্রতি বর্ণবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, বিশেষ করে ভিনিসিউস জুনিয়রের অভিযোগের পর। তাই ক্লাব কর্তৃপক্ষ মনে করেছে, তাদের প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থানের সঙ্গে তরুণ ডিফেন্ডারের আচরণ সাংঘর্ষিক। তিনি ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি শেয়ার করেছিলেন, যেখানে এশীয় মানুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে উপহাস করা হয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে রিয়াল মাদ্রিদ তাৎক্ষণিকভাবে পোস্ট প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয় এবং নিজেদের মাধ্যমেই ক্ষমাপ্রার্থনার বার্তা প্রকাশ করে। বিবৃতিটি এশিয়ায় বহুল ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ওয়েইবোতে প্রকাশ করা হয় এবং এতে খেলোয়াড়ের স্বাক্ষর ছিল। সেখানে লেখা ছিল, ‘আমি আন্তরিকভাবে আমার চীনা বন্ধুদের কাছে ক্ষমা চাইছি। আমি আগে যে কনটেন্টটি শেয়ার করেছি, তাতে অনিচ্ছাকৃতভাবে আপত্তিকর বার্তা ছিল। এটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত ছিল এবং এতে যে কষ্ট হয়েছে তার জন্য আমি দুঃখিত।’
চীনে প্রতিক্রিয়া ইতিবাচক ছিল না। অনেক ব্যবহারকারী ক্ষমাপ্রার্থনার সীমিত পরিসর নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং দাবি করেন, হুইসেন যেন ক্লাবের অফিসিয়াল বৈশ্বিক অ্যাকাউন্ট বা ভিডিও বার্তার মাধ্যমে আরও দৃশ্যমান ও প্রভাবশালীভাবে ক্ষমা চান। এখন পর্যন্ত খেলোয়াড় বা রিয়াল মাদ্রিদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় একটি পোস্ট থেকে, যা হুইসেন শেয়ার করেছিলেন এবং পরে মুছে ফেলেন। সেখানে এশীয় বংশোদ্ভূত একজন ব্যক্তির ছবি ছিল, সঙ্গে ছিল বৈষম্যমূলক মন্তব্য। এর মধ্যে একটি মন্তব্য ছিল, ‘You can blindfold them with dental floss. (আপনি ডেন্টাল ফ্লস দিয়েই তাদের চোখ বাঁধতে পারবেন)’। পোস্টটি অল্প সময়ের জন্য অনলাইনে থাকলেও, সেটি ক্লাবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাজারে তীব্র নিন্দার জন্ম দেয়।
এই ঘটনায় রিয়াল মাদ্রিদ একটি অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়ে। একদিকে তারা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ভিনিসিউসকে ঘিরে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান নিয়েছে, অন্যদিকে নিজেদের ভেতরেই সেই বার্তার পরিপন্থী আচরণ সংশোধনে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, এ ধরনের বিষয়ে এখন শুধু কথার অবস্থান যথেষ্ট নয়—প্রয়োজন বাস্তব ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ।




