ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeজাতীয়বাংলাদেশের সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্ক প্রতিরক্ষা জোটে যোগদানের সম্ভাবনা

বাংলাদেশের সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্ক প্রতিরক্ষা জোটে যোগদানের সম্ভাবনা

নিউজ ডেস্ক: সদ্য গঠিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ (সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্ক)–এ বাংলাদেশ যোগদানের বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির সরকারী কর্মকর্তারা। সামরিক জোটটির মূল লক্ষ্য হলো সদস্য দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; চুক্তিতে বলা হয়েছে, কোন এক দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে।

মঙ্গলবার (২২ আগস্ট) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, বাংলাদেশ এই ধরনের অর্থনৈতিক বা প্রতিরক্ষা কাঠামোয় যুক্ত হওয়া নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছে, তবে সিদ্ধান্ত নেবার আগে অবশ্যই দেশের জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় রাখা হবে।

হুমায়ুন কবির বলেন, সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি নেভিগেট করছে, যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশীয় স্বার্থের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি আরও জানান, প্যাক্টে যোগদানের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি; বাংলাদেশ এই বিষয়ে ‘অপশন খোলা রাখছে’ এবং বিষয়টি জাতীয় স্বার্থের আলোকে যাচাই-বাছাই করা হবে।

সৌদি আরবের মক্কায় গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত ওই প্রতিরক্ষা চুক্তি ক্রমশ ‘ইসলামিক ন্যাটো’ হিসেবে পরিচিত হচ্ছে। এতে সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিসহ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও একসঙ্গে সামরিক মহড়ার সুযোগ রয়েছে। হুমায়ুন কবির আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে বলেছেন, বাংলাদেশ এই চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা খোলামেলা ভাবেই দেখছে, তবে সব সময় জাতীয় স্বার্থ বজায় রাখাই সরকারের মনোভাব।

একই সময়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ভারসাম্য বজায় রাখা অগ্রাধিকার পাচ্ছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার প্রতিবেশী ও মিত্র সব দেশকেই সম্মান জানিয়ে চলার পক্ষে; তাই যেকোন জোট বা সহযোগিতায় যোগদানের আগে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং দেশের স্বার্থই প্রধান বিবেচ্য হবে।

আলোচনায় আরও বলা হয়েছে, চুক্তিতে যোগ দিলে বাংলাদেশকে নিরাপত্তা ছাড়িয়ে অর্থনীতি, জ্বালানি ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত লাভও হতে পারে। তেল আমদানিতে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এবং প্রতিরক্ষা খাতে পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে ইতিমধ্যেই ঘনিষ্ঠতা থাকায় বাংলাদেশের স্বার্থে যোগ্য সুবিধা অর্জন সম্ভব। তবে এসব বিষয়ে সরকার এখনও পদক্ষেপ ঠিক করে নেয়নি।-

এ পর্যন্ত বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্তহীন অবস্থানই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাংলাদেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব এসেছে না এবং সরকারের নীতি হচ্ছে ‘পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেয়া’। তবু এই বিষয়ে পশ্চিম এশিয়ার অগ্রগামী দেশগুলোতে বাংলাদেশের খুলে বলা আগ্রহ ভবিষ্যতে পররাষ্ট্র নীতি পরিসরে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিতে পারে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular