ঢাকা  রবিবার, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআন্তর্জাতিকবহুল প্রতীক্ষিত চীন সফর ডোনাল্ড ট্রাম্প

বহুল প্রতীক্ষিত চীন সফর ডোনাল্ড ট্রাম্প

নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বহুল প্রতীক্ষিত চীন সফর শুরু করেছেন। মঙ্গলবার (১২ মে) স্থানীয় সময় ওয়াশিংটন থেকে চীনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে বুধবার (১৩ মে) বেইজিং পৌঁছান ।

পূর্বনির্ধারিত এই সফরটি মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে কয়েক দফা পিছিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ চলাকালীন অবস্থাতেই চীন সফরে গেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

আগামী ১৫ মে পর্যন্ত ট্রাম্প চীনে অবস্থান করবেন এবং দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের এই সংকটময় মুহূর্তে ট্রাম্পের বেইজিং সফর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

পর্যবেক্ষক সংস্থা এশিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের চীন বিষয়ক শীর্ষ উপদেষ্টা কুর্ট কাম্পবেল এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও অস্বাভাবিক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন , একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলছে, অন্যদিকে চীন ও ইরান ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক ও কৌশলগত মিত্র হওয়া সত্ত্বেও বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে স্বাগত জানানো একটি বিরল ঘটনা।

কাম্পবেলের মতে, এই সফরটি প্রমাণ করে যে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উভয়েই বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় এবং দুই দেশের ভঙ্গুর সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে বিশেষভাবে আগ্রহী।

উল্লেখ্য, গত ৪০ দিন ধরে ইরান ও তার মিত্রদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী ব্যাপক বোমাবর্ষণ চালিয়ে আসছে এবং বর্তমানে ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ জারি রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চীনের মিত্র দেশের ওপর আক্রমণ চালিয়েও ট্রাম্পের এই রাষ্ট্রীয় সফরটি বাতিল না হওয়া বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের বিস্ময় সৃষ্টি করেছে।

ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধের পাশাপাশি বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয়গুলো এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রাধান্য পাবে। শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত আলোচনা দুই পরাশক্তির মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনে কোনো ভূমিকা রাখে কি না, সেদিকেই এখন নজর রাখছে বিশ্ববাসী।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, ট্রাম্পের এই সফরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পাশাপাশি ইরানের ওপর আরোপিত অবরোধ এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।

চীন শুরু থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করে আসলেও ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসা বেইজিংয়ের ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। তিন দিনের এই সফর শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে বড় কোনো ঘোষণা আসে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে ব্যাপক জল্পনা চলছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular