নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাবেক সচিব বিজন কান্তি সরকারকে তাঁর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ করেছেন। তিনি সে দেশের তিন ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর দায়িত্ব পালন করবেন। ওই সব জাতিগোষ্ঠীর সমস্যা, দাবিদাওয়া সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করবেন তিনি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই বিষয়ে সহকারী নিয়োগ এই প্রথম।

বৃহস্পতিবার বিজন কান্তি সরকারের নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেন মন্ত্রী পরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। বৃহস্পতিবারই বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এবং বাংলাদেশ পূজা পরিষদের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক তার সচিবালয়ের অফিসে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে বিজন কান্তি সরকারকে সংখ্যালঘু বিষয়ে তাঁর বিশেষ সহকারী নিয়োগের বিষয়টি জানান প্রধানমন্ত্রী।
সংখ্যালঘুদের দুটি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে জানান, তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনায় তারা খুব খুশি। প্রধানমন্ত্রী তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। অনেকগুলি দাবি সম্পর্কে স্পষ্ট করে সরকারের এবং প্রধানমন্ত্রীর নিজের অভিমত জানিয়েছেন।
বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকেই মনে করছেন তারেক রহমানের বৃহস্পতিবারের জোড়া পদক্ষেপ সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত। তিনি সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের সমর্থন পাকাপাকিভাবে বিএনপির পক্ষে ধরে রাখার চেষ্টা শুরু করলেন। ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লিগ ময়দানে ছিল না, বিগত নির্বাচনগুলিতে সংখ্যালঘু বিশেষ করে হিন্দুরা যে দলকে সমর্থন করে। এবার জামায়াতে ইসলামীকে আটকাতে হিন্দুরা একজোট হয়ে বিএনপিকে সমর্থন করে। তারই প্রভাব পড়ে বিএনপির ফলাফলে। তারা ২০৮টি আসনে বিজয়ী হয় এবং ভোট আগামী কয়েক মাস পর বাংলাদেশে ইউনিয়ন, উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে। ওই নির্বাচন গুলিতে ও যাতে সংখ্যালঘু বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায় বিএনপি’র পাশে থাকে সেজন্য সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ করা শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তারেক।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের সংগঠনগুলি বহু বছর হল সংখ্যালঘু কল্যাণ মন্ত্রক এবং সংখ্যালঘু সুরক্ষা কমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে। ঐক্য পরিষদ ও পূজা পরিষদের নেতারা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তাদের বলেছেন এই বিষয়ে তিনি প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে কথা বলবেন।
পূজা পরিষদের নেতারা দুর্গাপুজোয় তিন দিন ছুটি দাবি করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন তিনি এই ব্যাপারে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত জানাবেন। বৈঠকে হিন্দু সাধু চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন না পাওয়ার বিষয়ে কথা হয়। তারেক রহমান বলেন তিনি এই বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলবেন।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বেহাত সম্পত্তি পুনরুদ্ধারে অর্পিত সম্পত্তি আইন চালু করেছিল সাবেক আওয়ামী লিগ সরকার। সংখ্যালঘু নেতারা তারেক রহমানকে জানান, আগের সরকার আইন করলেও তা কার্যকর করেনি। এই বিষয়ে তারেক রহমান সাবেক শাসক দল সম্পর্কে মৃদু টিপ্পনী করেন। এক সংখ্যালঘু নেতা বলেন প্রধানমন্ত্রী এই কথা শোনার পর মন্তব্য করেন, ওরাই (আওয়ামী লিগ) তো সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি দখল করে রেখেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন নির্যাতনের ঘটনাগুলির তদন্ত এবং বিচারের ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।




