ঢাকা  সোমবার, ৩রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeজাতীয়বাংলাদেশে নারী ও সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা বাড়ছে: এইচআরডব্লিউ

বাংলাদেশে নারী ও সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা বাড়ছে: এইচআরডব্লিউ

নিউজ ডেস্ক : আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) জানিয়েছে, বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ‘বর্ষা বিপ্লব’ পরবর্তী সময়ে নারী, শিশু ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে ।

সংস্থাটির নারী অধিকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সমন্বয়ক শুভিজৎ সাহার লেখা এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে, যা মানবাধিকার রক্ষায় দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতাকেই তুলে ধরছে। গত ১৪ জানুয়ারি এইচআরডব্লিউর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে পুলিশের তথ্য উল্লেখ করে জানানো হয় যে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

প্রতিবেদনে সহিংসতার এই বাড়বাড়ন্তের পেছনে ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর উসকানিমূলক কার্যক্রম ও বক্তব্যকে দায়ী করা হয়েছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেমের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে যে, এসব গোষ্ঠী নারীদের স্বাধীন চলাফেরা ও সামাজিক অংশগ্রহণকে সীমিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

২০২৫ সালের মে মাসে কট্টর ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলো অন্তর্বর্তী সরকারের লিঙ্গসমতা ও নারী অধিকার উন্নয়নের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ‘ইসলামবিরোধী’ ট্যাগ দিয়ে প্রতিবাদ জানায়। এরপর থেকেই নারীরা মৌখিক, শারীরিক ও ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যাপক নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন। এই সহিংসতার ভীতি নারীদের মতপ্রকাশের ক্ষমতা কমিয়ে তাদের আরও নীরব করে তুলেছে।

সংখ্যালঘু ও জাতিগত গোষ্ঠীর ওপর হামলার চিত্রও প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। গত ডিসেম্বরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পোশাককর্মী দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাটি একটি বড় উদাহরণ হিসেবে টানা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, হিন্দুদের বিরুদ্ধে অন্তত ৫১টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে যার মধ্যে ১০টিই ছিল হত্যাকাণ্ড।

এছাড়া চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় নৃতাত্ত্বিক সংখ্যালঘুদের ওপর অব্যাহত নির্যাতনের বিষয়টিও এইচআরডব্লিউর নজরে এসেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, বাংলাদেশে পূর্বে দুজন নারী প্রধানমন্ত্রী থাকলেও এবং সাম্প্রতিক আন্দোলনে নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ থাকলেও বর্তমানে তারা রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩০টির কোনো নারী প্রার্থী না থাকার বিষয়টি এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে উদ্বেগের সঙ্গে জানানো হয়েছে। বিশেষ করে অন্যতম প্রধান ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কোনো আসনেই নারী প্রার্থী দেয়নি।

এমন পরিস্থিতিতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সরকারকে নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো বিবেচনা করার এবং সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। সেই সঙ্গে জাতিসংঘের ‘সিডও’ সনদ এবং নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির বাধ্যবাধকতা মেনে চলার পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় সাংবিধানিক বিধান রক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular