নিউজ ডেস্ক: ব্যাপক দরপতনের পর গত সপ্তাহে দেশের শেয়ারবাজারে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলেছে। সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার কার্যদিবসেই ঊর্ধ্বমুখী ছিল শেয়ারবাজার। এতে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। ফলে ডিএসইর বাজার মূলধন প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে মূল্যসূচক। তবে কমেছে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ।
এর আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর গত সপ্তাহের আগের সপ্তাহে দেশের শেয়ারবাজারে ব্যাপক দরপতন হয়। লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমায় এক সপ্তাহেই ডিএসইর বাজার মূলধন ২০ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা কমে যায়।
এমন পতনের পর গত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেও দেশের শেয়ারবাজারে বড় দরপতন হয়। তবে পরের চার কার্যদিবসে ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলে। এতে সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৩২৪টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৩৮টির দাম কমেছে এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এমন উত্থান হওয়ায় সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৬ হাজার ৯১২ কোটি টাকা, যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৬ লাখ ৯৭ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন বেড়েছে ৮ হাজার ৯৬১ কোটি টাকা বা ১ দশমিক ২৮ শতাংশ।
বাজার মূলধন বাড়ার পাশাপাশি গত সপ্তাহে প্রধান মূল্যসূচকও বেড়েছে। ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে ১২৭ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ। তার আগের সপ্তাহে সূচকটি কমে ৩৫৯ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট বা ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ।
অপর দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক গত সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে ৫৪ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৭২ শতাংশ। তার আগের সপ্তাহে সূচকটি কমে ১৫৭ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট বা ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ।
ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক গত সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে ৩০ দশমিক ৭০ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৯৩ শতাংশ। তার আগের সপ্তাহে সূচকটি কমে ৬৭ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট বা ৬ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ।
এদিকে গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনের গতি কমেছে। সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৫৩১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। তার আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৬৯৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ১৬৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা বা ২৩ দশমিক ৭১ শতাংশ।
সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার। কোম্পানিটির শেয়ার প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ২৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ৫ দশমিক ৪০ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিটি ব্যাংকের শেয়ার প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ২৭ কোটি ১২ লাখ টাকা। প্রতিদিন গড়ে ১৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে খান অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ।
এ ছাড়া লেনদেনের শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- ব্র্যাক ব্যাংক, রবি, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, লাভেলো আইসক্রিম, সামিট এলায়েন্স পোর্ট এবং ইনটেক লিমিটেড।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মাঝে দাম বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে এসেছে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়েছে ৫০ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা পিপলস লিজিংয়েরও শেয়ার দাম বেড়েছে ৫০ শতাংশ। তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকা ফাস ফাইন্যান্সের শেয়ার দাম বেড়েছে ৫০ শতাংশ।
সাপ্তাহিক দাম বাড়ার তালিকায় উঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলো হলো–ফারইস্ট ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফ্যামিলি টেক্স, এইচ আর টেক্সটাইল, মেঘনা কনডেন্স মিল্ক, মেঘনা পেট ও প্রাইম ফাইন্যান্স
গত সপ্তাহে ডিএসই লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মাঝে দাম কমার শীর্ষে উঠে এসেছে সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড। কোম্পানির দাম কমেছে ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা গ্রিন ডেল্টার শেয়ার দাম কমেছে ৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে থাকা রিং-শাইনের শেয়ার দাম কমেছে ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ।
সাপ্তাহিক শেয়ার দাম কমার তালিকায় উঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলো হলো- দুলামিয়া কটন, হামি ইন্ডাস্ট্রিজ, ওরিয়ন ইনফিউশন, নর্দার্ণ জুট, রেনউইক, এএফসি অ্যাগ্রো ও মেট্রো স্পিনিং।
দেশের আরেক পুঁজিবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই গত সপ্তাহে ১ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ বেড়ে ১৪ হাজার ৯৮০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, তার আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৪ হাজার ৮২৫ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচকটি সপ্তাহের ব্যবধানে ১ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ১৬০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, তার আগের সপ্তাহে যা ছিল ৯ হাজার ৬১ পয়েন্ট।



