ঢাকা  শনিবার, ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশবান্দরবানবান্দরবানে নির্বিচারে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি, নীরব প্রশাসন

বান্দরবানে নির্বিচারে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি, নীরব প্রশাসন

নিউজ ডেস্ক: বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে সরকারি খাস পাহাড় কেটে চলছে মাটি বিক্রি। এ ইউনিয়নের হারখাজা, নয়াপাড়া, মহেশখালীপাড়া ও কুরুপপাতা ঝিরি এলাকায় প্রকাশ্য পাহাড় কেটে ট্রাক ও ট্রলিযোগে মাটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হলেও নীরব ভূমিকা পালন করছে প্রশাসন।

সরেজমিন ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের হারখাজা, নয়াপাড়া, মহেশখালীপাড়া ও কুরুপপাতা ঝিরি এলাকায় দেখা যায়, একাধিক পাহাড়ের বড় অংশ কেটে সমতল করা হয়েছে। পাহাড়ের গায়ে সৃষ্টি হয়েছে গভীর ক্ষত। কোথাও কোথাও পাহাড়ের বুক চিরে তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী সড়ক। প্রতিদিন ভারী যানবাহনের অবাধ চলাচলে পুরো এলাকা ধুলা ও শব্দ দূষণের কবলে পড়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, স্থানীয় মো. বেলাল, মুবাছিং মার্মা, মো. শুক্কুরসহ কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাস পাহাড় দখল করে মাটি কেটে বিক্রি করছেন। পাহাড় ধসের আশঙ্কা থাকায় ঝুঁকিতে পড়েছে আশপাশের বসতবাড়ি ও জনজীবন।

স্থানীয় নারী ইউপি সদস্য জোসনা আক্তার লিলি বলেন, প্রশাসন আসে, কিন্তু পাহাড় কাটা বন্ধ হয় না। উল্টা যারা তথ্য দেয়, তাদের হুমকি-ধমকির মুখে পড়তে হয়।
অভিযোগ প্রসঙ্গে মো. বেলালের সঙ্গে আলাপ হয় সমকালের। এ সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করে পাহাড় কাটা হচ্ছে। এলাকায় অনেকেই এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সাংবাদিকরা শুধু তাঁর পেছনে লেগে আছেন কেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, পাহাড়ের লাল মাটি ‘লাল বালু’ নামে পরিচিত। ঝিরি ও খালের বালুর চেয়ে পাহাড়ের লাল বালুর দ্বিগুণ দামে বিক্রি হওয়ায় সবার নজর লাল মাটির পাহাড়ের দিক। প্রথমে মাটি কেটে পাচার হয় খুটাখালী ডুলহাজার রংমহল এলাকার বালুমহালে। সেখান থেকে ব্যবসায়ীরা বালু চট্টগ্রামসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যায়।

লামা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রোবায়েত আহম্মেদ বলেন, পাহাড় কেটে বালু বিক্রির বিষয়টি সত্য। কিন্তু তিনি সরেজমিন গিয়ে কাউকে পাননি।

পরিবেশ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, দুর্গম হওয়ায় পাহাড় কাটায় জড়িতদের সহজে ধরা সম্ভব হয় না। তাদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করা হয়েছে। শিগগিরই দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন বলেন, পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি বন্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে এসিল্যান্ডকে বলা হয়েছে। জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে নজর রাখছে। শিগগিরই পাহাড় কাটা বন্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular