নিউজ ডেস্ক : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রফেসর ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে গণভোটের দাবি তুলে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র কোনোভাবেই দেশবাসী মেনে নেবে না।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) বিরামপুর সরকারি কলেজ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব বক্তব্য রাখেন এবং ভোটের মাধ্যমে ভুল সিদ্ধান্তের জবাব দেয়ার আহ্বান জানান।
ডা. জাহিদ বলেন, “একটি দলের দাবি নিয়ে জাতীয় নির্বাচন পিছাতে গণভোট করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে — এটা জনগণ বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা। আমাদের মানুষ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ; তাই ভোটের বাইরে যেসব পথ খোলা হচ্ছে তা মেনে নেওয়া হবে না।” তিনি আরও বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা ও স্বাধীনতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্তমূলক নির্বাচন।
সভায় ডা. জাহিদ নির্বাচনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ভোটের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হবে। তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।
স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও প্রতিনিধিদের বক্তব্যে বিরামপুরকে জেলা করার দীর্ঘদিনের দাবি গুরুত্বসহকারে উল্লেখ করা হয়। বক্তারা জানান, দিনাজপুর-৬ (বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, ঘোড়াঘাট, হাকিমপুর) সমন্বয়ে উপজেলা ও পৌর পর্যায়ের ৭টি ইউনিয়ন ও ৯টি ওয়ার্ডকে নিয়ে বিরামপুরকে জেলা হিসেবে গঠন করলে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে — এবং এ দাবিটি আসন্ন নির্বাচনে জোরালোভাবে তুলবেন তারা। সভায় সহযোগিতা ও ঐক্যের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পৌর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হুমায়ুন কবির মিলন; সঞ্চালনা করেন স্থানীয় নেতারা। উপজেলা ও পৌর পর্যায়ের শতাধিক বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর, ভাইস চেয়ারম্যান, ও অন্যান্য জনপ্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মিয়া মো. শফিকুল আলম মামুন, সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর এলাহী চৌধুরী রুবেল, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি তোছাদ্দেক হোসেন তোছা ও আতিকুর রহমান রাজা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কমর সেলিম প্রমুখ।
আরো পড়ুন :
বিএনপি সবসময় জনগণের পাশে থাকবে : অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন
ডা. জাহিদের এই বক্তব্যকে স্থানীয় নেতারা দলের গ্রামের স্তর থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী মাঠে নামার এবং ভোট-প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আগামী নির্বাচনের আগে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি দেশের মানুষের আস্থা ও সংহতিকে সবচেয়ে আগে রাখতে হবে—এই বার্তাই সভার প্রবল সুর ছিল।
ঢাকানিউজ/মহফ



