অর্থনীতি ডেস্ক: চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ২ মাসে (জুলাই–আগস্ট) বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা ও দেশ ঋণ ছাড় করেছে বাংলাদেশে সাড়ে ২৯ কোটি ডলার।
কিন্তু এ সময়ে আগে নেওয়া ঋণের সুদ ও আসল বাবদ প্রায় ৭০ কোটি ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ঋণ পাওয়ার তুলনায় দ্বিগুণের বেশি ২৩৭ শতাংশ বেশি পরিশোধ করতে হয়েছে বাংলাদেশ।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিদেশি ঋণের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত অর্থবছরে জুলাই–আগস্টে সব মিলিয়ে ৭৫ কোটি ডলার ঋণ ছাড় করেছিল বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা ও দেশ। এ বছর একই সময়ে তারা ছাড় করেছে ২৯ কোটি ৪৫ লাখ ডলার। তারা পুরোটাই প্রকল্প ঋণ হিসেবে দিয়েছে। কোনো অনুদান নেই।
জানা গেছে, প্রধান উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে চলতি অর্থবছরের প্রথম ২ মাসে সবচেয়ে বেশি অর্থ ছাড় করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটি ১২ কোটি ৮৭ লাখ ডলার ছাড় করেছে।
আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) থেকে এসেছে ৭ কোটি ৩৯ লাখ ডলার। এ ছাড়া জাপান ৩ কোটি ৯০ লাখ, ভারত ৩ কোটি ০৩ লাখ, এবং রাশিয়া ২ কোটি ০৬ লাখ ডলার ছাড় করেছে।
তবে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) ও চীন গত ২ মাসে কোনো অর্থ ছাড় হয়নি।
কয়েক বছর ধরেই বিদেশি ঋণ পরিশোধ বেশ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরে জুলাই–আগস্টে ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে।
এর মধ্যে ৫১ কোটি ৬০ লাখ ডলার আসল এবং ১৮ কোটি ২৮ লাখ ডলারের বেশি সুদ বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে বিদেশি ঋণের সুদাসল বাবদ সরকারকে প্রায় ৬৭ কোটি ডলার পরিশোধ করতে হয়েছিল।
অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পরিশোধ ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ৩ কোটি ১৮ লাখ ডলার। পরিশোধের বড় অংশই গেছে ঋণের আসল পরিশোধে।
প্রথম ২ মাসে বিদেশি ঋণের আসল বা মূলধন বাবদ ৫১ কোটি ৬০ লাখ ডলার পরিশোধ করেছে সরকার। আর সুদ বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ১৮ কোটি ২৮ লাখ ডলার।
অর্থাৎ অর্থবছরের শুরুতেই পুরোনো বৈদেশিক ঋণের দায় মেটাতে প্রায় ৭০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। একদিকে নতুন অর্থ ছাড় কমেছে, অন্যদিকে পুরোনো ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধ অব্যাহত থাকায় বৈদেশিক অর্থায়নের ব্যবস্থাপনায় চাপের বিষয়টি সামনে এসেছে।
ইআরডির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, শুধু অর্থ ছাড় নয়, বিদেশি সহায়তার নতুন প্রতিশ্রুতিতেও অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে তেমন গতি দেখা যায়নি।
এ সময়ে মাত্র ২৪ কোটি ডলারের বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে অনুদান ৯ কোটি ৭১ লাখ ডলার এবং প্রকল্প ঋণ ১৪ কোটি ৩২ লাখ ৮ ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে নতুন প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছিল ২৪ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। অর্থাৎ গত ২ মাসে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি শূন্য দশমিক ৩৪ লাখ ডলার কমেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশি সহায়তার অর্থ ছাড় সাধারণত প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি, ঋণের শর্ত পূরণ এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে। ফলে অর্থবছরের শুরুতে অর্থ ছাড় কম থাকলেই পুরো অর্থবছরে একই থাকবে, তা নয়।




