নিউজ ডেস্ক: বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ভারী শিল্পে ব্যবহৃত জ্বালানি ফার্নেস অয়েলের দাম লিটারে ১১ টাকা ৯২ পয়সা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ফলে প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০৮ টাকা ৭৮ পয়সা। নতুন এই দাম বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিইআরসি এ মূল্য সমন্বয়ের তথ্য জানায়। এর আগে ফার্নেস অয়েলের দাম ছিল প্রতি লিটার ৯৬ টাকা ৮৬ পয়সা। নতুন দরে ১১ টাকা ৯২ পয়সা বৃদ্ধির অর্থ হলো আগের দামের তুলনায় প্রায় ১২ দশমিক ৩ শতাংশ দাম বেড়েছে।
বিইআরসির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারের ফার্নেস অয়েলের দরের পাশাপাশি আমদানি করা অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্য এবং ডলারের বিনিময় হার বিবেচনায় নিয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৯ আগস্ট থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত প্রকাশিত ফার্নেস অয়েলের প্ল্যাটস রেটের গড় এবং সেপ্টেম্বর মাসে আমদানি করা ক্রুড অয়েলের সিআইএফ মূল্যও হিসাবের আওতায় নেওয়া হয়েছে।
বিইআরসি জানিয়েছে, কমিশনের ২২ ফেব্রুয়ারির আদেশের ধারাবাহিকতায় মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিইআরসি আইন, ২০০৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী কমিশনের ক্ষমতা ও দায়িত্ব প্রয়োগ করা হয়েছে। নতুন মূল্য ৩০ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা থেকে কার্যকর হয়ে পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।
ফার্নেস অয়েল দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বিভিন্ন ভারী শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে তরল জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে এর ব্যবহার রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে ফার্নেস অয়েলের সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
এর আগে জুলাই মাসে বিইআরসি ফার্নেস অয়েলের দাম লিটারে ৮ টাকা ৭১ পয়সা কমিয়ে ১০০ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করেছিল। পরবর্তী সময়ে বাজার পরিস্থিতি ও আমদানি ব্যয়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূল্য আবার সমন্বয় করা হলো।-
নতুন করে ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ভারী শিল্পের জ্বালানি ব্যয়ে প্রভাব পড়তে পারে। তবে নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার পর এর সামগ্রিক প্রভাব উৎপাদন ব্যয় ও বিদ্যুৎ খাতে কতটা পড়ে, তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।




