ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅপরাধবিশুর অপরাধে কলরেডীর পুরাতন বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

বিশুর অপরাধে কলরেডীর পুরাতন বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঐতিহাসিক মাইক প্রতিষ্ঠান কলরেডী স্বত্বাধিকারীদের একজন বিশ্বনাথ ঘোষ ওরফে বিশু দীর্ঘদিন অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করায় তার বাড়ির সংযোগ লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। রবিবার দুপুর তিনটায় ডিপিডিসির পুরান ঢাকার কুমারটুলি জোনের একাধিক কর্মকর্তার উপস্থিতিতে এই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এসময় এলাকার লোকজন উপস্থিত ছিল। পরে অবৈধ সংযোগ ব্যবহারকারী বিশ্বনাথ ঘোষের পরিবারকে জরিমানার নোটিশ তাদের একরামপুরের বাসায় দেওয়া হয়।

জানা যায় ১০/১ ঠাকুর দাস লেনের বাসায় বিশ্বনাথ ঘোষ একাই থাকত। বিশ্বনাথ ঘোষের অপর তিন ভাই ওই বাড়িতে তার অনুমতি ব্যতিরেকে ঢুকতে পারতো না। বিশ্বনাথ ঘোষ দীর্ঘদিন যাবত তাদের মূল বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের লাইন রিচার্জ করত না। এরপর সে কাউকে না জানিয়ে গোপনে প্রতিবেশী ১১ নং ঠাকুর দাস লেনের মালিক সুশীল কুমার দত্তের বিদ্যুতের সার্ভিস লাইন কেটে অবৈধ ভাবে বিদুৎ ব্যবহার করতে থাকে।

বিষয়টি সুশীল কুমার দত্তের ছেলে সুমন দত্ত বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন ও জোন প্রধান অভিজিৎ সাহাকে জানান। ঘণ্টা দুয়েক পর বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে অভিযোগের সত্যতা পান এবং তাৎক্ষণিক ভাবে ১০/১ নং ঠাকুর দাস লেনের বৈধ ও অবৈধ দুটোই সংযোগই বিচ্ছিন্ন করে তা জব্দ করে নিয়ে যায়। বিশ্বনাথ ঘোষের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তারা জানায়।

১০/১ নং ঠাকুর দাস লেনের বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির বিল দয়াল ঘোষের নামে হয়। দয়াল ঘোষ হচ্ছেন বিশ্বনাথ ঘোষের পিতা হরিপদ ঘোষের বড় ভাই। দয়াল ঘোষই হচ্ছেন ঐতিহাসিক মাইক প্রতিষ্ঠান কলরেডীর প্রতিষ্ঠাতা। দয়াল ঘোষ অবিবাহিত অবস্থায় মারা গেলে প্রতিষ্ঠানটির মালিক হোন হরিপদ ঘোষ ও কানাই লাল ঘোষ। পরবর্তীতে তারাও মারা যান। এরপর প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত হোন হরিপদ ঘোষের বড় ছেলে বিশ্বনাথ ঘোষ। আওয়ামী লীগের আমলে বিশ্বনাথ ঘোষ তার অপর তিন ভাইয়ের নামে মিথ্যা হত্যা মামলা দিয়ে কলরেডীর মালিকানা নিয়ে নেয়।

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতন হলে বিশ্বনাথ ঘোষ নানা অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। কিছুদিন আগে ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ পানির বিল বকেয়া থাকায় তাদের ১০/১ নং ঠাকুর দাস লেনের বাড়িতে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে আসে। তখন বিশ্বনাথ ঘোষ ইচ্ছাকৃত ভাবে আত্মগোপনের চলে যায়। ৪৪ নং ওয়ার্ডের বিএনপির নেতাদের ধরে পার পাওয়ার চেষ্টা করে। এলাকায় বিশ্বনাথ ঘোষের নামে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। যার অন্যতম অভিযোগ হচ্ছে সে একজন চিহিৃত মাদকসেবী ও মাদক বিক্রেতা। ঠাকুর দাস লেনের মাদক সিন্ডিকেট তার হাতে। আওয়ামী লীগের সময় কলরেডীকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে চলেছে মাদক সেবন ও বিক্রি। এখন কতিপয় বিএনপি নেতার নামে চলছে একই কাজ।

 

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular