গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ গফরগাঁও উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার প্রয়াত নাজমুল হকের বাড়িতে অগ্নি সংযোগের ঘটনায় যুবলীগ লীগ কর্মী শাহীনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ১৫ আগস্ট ভোর রাতের এই ঘটনায় রোববার দিবাগত-রাতে রাওনা ইউনিয়নের বড়াইল গ্রামের একটি ইটভাটা থেকে মাদক সেবনের সময় শাহীন ও তার এক সহযোগীকে বিশেষ অভিযানে আটক করা হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, শাহীন দীর্ঘদিন ধরে একটি কিশোর গ্যাং গড়ে তোলে। মাদক, জুয়া, ছিনতাই ও রাস্তায় ডাকাতিসহ নানা অপরাধের মাধ্যমে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। গত ৫ আগস্টের পর বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এ চক্র। তারা চাঁদাবাজি, জমি দখল এলাকায় ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নেয়। এছাড়াও কিশোরদের নেশায় জড়িয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করে। শাহীন গংয়ের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রাওনা ইউনিয়ন যুবদল নেতা জসিম মিয়াকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টার মামলা রয়েছে। এছাড়া কিছুদিন আগে বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার চাচা শ্বশুরবাড়িতে হামলা ও লুটপাট চালানোর অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী খাদিজা আক্তার রূপা রোববার গফরগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন। গফরগাঁও থানার ওসি মো. বাচ্চু মিয়া জানান, শাহীনের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আওয়ামী যুবলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছে। গত ৫ আগস্টের পর স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতার আশ্রয়ে সে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তিনি বলেন,’স্পর্শকাতর এই ঘটনাটি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। শাহীন এবং তার সঙ্গী ফয়সাল ও সানীকে, মুক্তিযোদ্ধা নাজমুল হকের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।



