ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeজাতীয়ভারত থেকে চাল আমদানি রাজনৈতিক নয় — উপদেষ্টা

ভারত থেকে চাল আমদানি রাজনৈতিক নয় — উপদেষ্টা

নিউজ ডেস্ক : দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও চাল-সরবরাহ নিয়ে সরকারি আশ্বাস দিলেন খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার: ভারত থেকে চাল বা অন্যান্য খাদ্যপণ্য আমদানি করা রাজনৈতিক কোনো কর্মসূচি নয়, বরং এটি বাজারের স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া—যেখানে ক্রেতা ও বিক্রেতার প্রয়োজনেই লেনদেন হয়। এই বক্তব্য তিনি সচিবালয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সরকারের চলমান খাদ্য সংগ্রহ অভিযান ও মজুত পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন।

উপদেষ্টা বলেন, সরকার পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্য ছাড়িয়ে গেছে—ধান ও চাল সংগ্রহ সফলভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ধান ৫০ হাজার টন, সিদ্ধ চাল ৬ লাখ টন এবং আতপ চাল ৫৭ হাজার টন; বর্তমানে সংগ্রহ হয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার টন ধান, ৭ লাখ ৩২ হাজার টন সিদ্ধ (চাল) এবং ৫৭,৫৯৬ টন আতপ চাল—এই কৃতিত্বকে রপ্ত করে খাদ্য মজুত পরিস্থিতি সন্তোষজনক বলেই দাবি করা হচ্ছে।

সরকারি গুদামে সামগ্রিক মজুত এবং লজিস্টিক সক্ষমতাও শক্ত বলে উপদেষ্টা জানিয়েছেন। বর্তমানে সরকারি গুদামে মোট ২০ লাখ ২৭ হাজার টন খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে; এর মধ্যে চাল ১৬ লাখ ৯৬ হাজার ৭৮৭ টন, গম ২ লাখ ৩৩ হাজার ২২৪ টন ও ধান ৯ লাখ ৭ হাজার ৪০৯ টন রাখা আছে—এখনও স্টক বাড়ানোর সর্বোচ্চ সুযোগ সরকারি পর্যায়ে ২৪ লাখ টন পর্যন্ত আছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সীমিত বৈদেশিক টানাপোড়েন শোকেজ হলেও খাদ্য পরিস্থিতিতে তা তৎক্ষণাত মন্দ প্রভাব ফেলবে না।

চাল মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও বাজার স্থিতিশীলতা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে খাদ্য উপদেষ্টা বলেন—শুধু দামের ওপর মনোনিবেশ করার চেয়ে সাপ্লাই চেইন সচল রাখা বেশি জরুরি। স্থানীয় সংগ্রহ অভিযান অব্যাহত থাকায় ও শীতকালীন বোরো রোপণের প্রস্তুতি মাথায় রেখে সরকার উপযোগী ব্যবস্থাসমূহ কার্যকরে রাখছে; ফলে ভোক্তা পর্যায়ে অপ্রত্যাশিত মূল্যবৃদ্ধি দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হবে, এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তাত্ক্ষণিক রাজনীতি-ভিত্তিক চাপ সৃষ্টি করলে কখনো বাজারে স্বল্পকালীন বিঘ্ন ঘটতে পারে—তবে সরকারের বড় মজুত, চলমান সংগ্রহ অভিযানের সফলতা এবং আমদানি-চ্যানেল খোলা থাকায় খাদ্য নিরাপত্তার বড় ধাক্কা এড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও খাদ্যবিশ্লেষকরা। তারপরও তারা সতর্ক করে বলেন—দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার জন্য স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো, মজুত অবকাঠামো উন্নয়ন ও বৈদেশিক ভ্যান্ডরের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরতা কমানো জরুরি।

ঢাকানিউজ২৪/মহফ

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular