ঢাকা  রবিবার, ২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশময়মনসিংহভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার

ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার

রোবেল মাহমুদ,গফরগাঁও,ময়মনসিংহ:ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার ১৯১৯ সনের ১০ অক্টোবর ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার রাওনা ইউনিয়নের পাঁচুয়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। বাবার নাম হাছেন আলী ও মায়ের নাম সাফাতুন নেছা। স্থানীয় কৃষ্ণ বাজার ধোপাঘাট প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। কিছুদিন বাবার কৃষি কাজে সাহায্য করেন। পনের বছর বয়সে তিনি কাজের সন্ধানে নারায়গঞ্জ চলে আসেন। এখানে এক ইংরেজ নাবিকের সাথে আব্দুল জব্বার রেঙ্গুন শহরে(বতর্মান মায়ানমারের ইয়াঙ্গুন)এসে জাহাজে কাজ শুরু করেন। একটানা বারো বছর আব্দুল জব্বার রেঙ্গুনে কাজ করে ভগ্ন স্বাস্থ্যের কারণে গ্রামে ফিরে আসেন।সেই সময় গ্রামের যুবকদের নিয়ে একটি গ্রাম ডিফেন্স পার্টি গঠন করে জন কল্যাণমুলক কাজে জড়িয়ে পড়েন।পরবর্তীতে আনসার ট্রেনিং নিয়ে নিজ গ্রামে আনসার কমান্ডার হিসেবে কাজ করেন।
১৯৪৯ সালে আব্দুল জব্বার বন্ধুর বোন আমেনা খাতুনকে বিয়ে করে সংসারি হন।তাদের একমাত্র সন্তান নুরুল ইসলাম বাদলের জন্ম হয় ১৯৫০ সনে।তিনি বাংলাদেশ সেনা বাহিনীতে কর্ম জীবন শেষ করে ঢাকার তেজকুনি পাড়া বসবাস করতেন।নুরুল ইসলাম বাদল ২০২১ সালের ১৪ অক্টোবর ৭৩ বছর বয়সে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান।তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন বীর সৈনিক।
১৯৫২ সালের ২০শে ফেব্রুয়ারী আব্দুল জব্বার ক্যান্সার আক্রান্ত শাশুড়ীকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান।সে সময় ঢাকা মেডিক্যালের বাইরে,বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসসহ বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষার দাবিতে সোচ্চার ছাত্র-জনতার শ্লোগানে মুখরিত ঢাকার রাজপথ। একুশে ফেব্রæয়ারী আব্দুল জব্বার মেডিক্যাল গেইটের বাইরে শাশুড়ীর জন্য ফল কিনতে গিয়ে দেখেন রাষ্ট্র ভাষার দাবিতে ছাত্র-জনতার সমাবেশ।সেই সাথে রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবিতে শ্লোগান আর মিছিলে উত্তাল রাজপথ।যুবক আব্দুল জব্বার অসুস্থ শাশুড়ীর জন্য ফল নেওয়ার কথা ভুলে গিয়ে ভাষার দাবিতে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সেই ঐতিহাসিক মিছিলে যোগ দেন।সে সময়ে পুলিশের এলোপাথারি গুলিতে অনেকের সাথে আব্দুল জব্বারও গুলিবিদ্ধ হন। আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি ২১ ফেব্রæয়ারী রাতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বারকে আজিমপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
শহীদ আব্দুল জব্বারকে সরকার ২০০০ সালে মরণোত্তর ২১শে পদক দিয়ে সম্মানিত করেন।
গফরগাঁওয়ের পাঁচুয়াতে ২০০৮ সালে ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ করা হয়। অনেক দর্শনার্থী এখানে বই পড়তে ও ঘুরতে আসেন। এখানে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও শহীদ জব্বারের নামে রয়েছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। জাদুঘরে শহীদ জব্বারের ব্যবহৃত কোনো জিনিস পত্র না থাকায় দর্শনার্থীদের আক্ষেপ রয়েছে।
এ ব্যাপারে ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বারের স্বজন
আব্দুল কুদ্দুছ বলেন,শহীদ জব্বারের ব্যবহৃত জিনিস পত্র পরিবারের সংগ্রহে ছিলনা। উনার ব্যবসায় ব্যবহৃত কাঁসার একটি দাঁড়িপাল্লা ও ট্রেনিংরত সশস্ত্র ফটোগ্রাফ আনসার একাডেমীতে দেয়া হয়েছে।
বর্তমান গ্রাম পাঁচুয়াকে শহীদ জব্বার নগর নামে প্রতিষ্ঠা করতে সরকারি উদ্যোগটি ভেস্তে যাওয়ায় গ্রামবাসীর ক্ষোভ রয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াসিনুল আরাফাত নিশাত বলেন,ভাষা শহীদের নামে এই গ্রামের পরিচিতি ‘জব্বারনগর’আমাদের প্রাণের দাবি। শিগগির প্রশাসনের মাধ্যমে পাঁচুয়াবাসীর এই দাবি বাস্তবায়নের আহবান জানাচ্ছি।ভাষা শহীদ আবদুল জব্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান কাজল বলেন,আপামর জনতার এই দাবি দীর্ঘ দিনেও কার্যকর না হওয়ায় এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ।
জানা যায়,ভাষাশহীদ আব্দুল জব্বারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার জন্মস্থান পাঁচুয়া গ্রামের নাম জব্বার নগর করার সিদ্ধান্ত হয়।২০০৭ সালের ২৫ মার্চ স্থানীয় সরকার বিভাগের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়। দীর্ঘ দিনেও বাস্তবায়ন হয়নি এই দাবি।
গ্রামের প্রবেশদ্বারে একটি তোরণ নির্মাণ করেই দায় শেষ করেছে প্রশাসন।
গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) এন.এম.আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেন,এ ব্যাপারে সব কিছু আমার জানা নাই। শহীদ জব্বার গ্রন্থাগারে পাঠক উপস্থিতি বাড়াতে নতুন করে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
জব্বারনগর প্রতিষ্ঠার বিষয়ে এলাকাবাসীর দাবির প্রতি শ্রদ্ধাশীল,শিগগির এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করা হবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular