আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোটে’ ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া।
মস্কোর মতে, প্রতিরক্ষা কাঠামোটিতে তেহরানের অংশগ্রহণ মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত কার্যকরী ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ হতে পারে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) মস্কো স্টেট ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস (এমজিআইএমও)-এর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সময় রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এই প্রস্তাব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য রাশিয়া দুই দশক আগেই আরব দেশগুলো ও ইরানকে নিয়ে একটি যৌথ নিরাপত্তা কাঠামোর প্রস্তাব দিয়েছিল।
গত ৭ আগস্ট পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক যৌথভাবে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। চুক্তিটি মূলত ত্রিদেশীয় প্রতিরক্ষা ও পারস্পরিক নিরাপত্তা সহযোগিতার লক্ষ্যে গঠিত হলেও এর পরিধি আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
ল্যাভরভ উল্লেখ করেন, এই প্রতিরক্ষা জোটে মিসর ও আলজেরিয়ার মতো দেশগুলোর যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে যদি সব পক্ষ সম্মত হয়ে ইরানকেও এই জোটে যুক্ত করার শর্তাবলীতে পৌঁছাতে পারে, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতায় সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনো আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোটে রাশিয়া প্রধান বা নেতৃত্বের ভূমিকা পালনের কোনো চেষ্টা করবে না।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলে চরম অস্থিরতার মধ্যে আঞ্চলিক সামরিক শক্তিগুলো নিজেদের নিরাপত্তা জোরদারে এই উদ্যোগ গ্রহণ করছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারও স্পষ্ট করেছিলেন যে, মক্কা চুক্তি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহযোগিতার ভিত্তিতে আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যই এটি গঠিত।




