বিনোদন ডেস্ক : টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার বিয়ে করলেন দীর্ঘদিনের প্রেমিক দেবমাল্য চক্রবর্তীকে। পাত্র শোবিজপাড়ার কেউ নন। পেশায় তিনি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) স্বরসতী পূজার রাতে প্রেমিক দেবমাল্য চক্রবর্তীর সঙ্গে কাগজ-কলমে সাত পাকে বাঁধা পড়েন তিনি।
বিয়েতে বাঙালি সাজে সেজেছিলেন অভিনেত্রী। লাল বেনারসি, সোনার গয়নায় মোড়া সারা গা, কপালে সূক্ষ্ম চন্দনের কাজ। বিয়ের দিন এ নায়িকা বললেন, ‘পর্দার বিয়ের সঙ্গে এটার কোনো তুলনাই হয় না। নিজের বিয়ে তো সবচেয়ে বেশি স্পেশাল।’
মধুমিতার বিয়েতে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন পরিচালক শিলাদিত্য মৌলিকসহ অনেকে। কনের সাজে অপরূপা মধুমিতার সঙ্গে তোলা ছবি ফেসবুকের পোস্টে ভাগ করে নিয়েছেন তারা।
বিয়ের আয়োজনে কোনো কমতি রাখেননি মধুমিতা। খানাপিনাও ছিল জম্পেস। মধুমিতা সরকার এবং দেবমাল্য চক্রবর্তীর বিয়ের আসরে সাবেকিয়ানা থাকলেও, ভুরিভোজের মেন্যুতে কিন্তু আধুনিক ও মোগলাই খাবারের দাপটই ছিল বেশি। আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য সাজানো হয়েছিল এমন এক মেন্যু, যা এক কথায় রাজকীয়।
বিরিয়ানি থেকে ফিশ ফ্রাই— সব ছিল সুপারহিট! শুরুতেই রাজকীয় আপ্যায়ন কলকাতা স্টাইল ভেটকি ফিশ ফ্রাই। বিয়ের আসরে বাঙালির সবথেকে প্রিয় ভেটকি মাছের মচমচে ফিশ ফ্রাই এবং সঙ্গে কাসুন্দি।
স্টার্টারে ছিল রেশমি কাবাব এবং মশলাদার হারিয়ালি চিকেন কাবাব, যা অতিথিদের মন জয় করে নেয়। বাসমতি চালের লং গ্রেইন রাইস, সাথে নরম মাংস এবং বিরিয়ানির সেই স্পেশাল আলু।
গরম গরম নরম নান, যা পরিবেশন করা হচ্ছিল সরাসরি তন্দুর থেকে। নানের সঙ্গে খাওয়ার জন্য ছিল গ্রেভি ঠাসা চিকেনের বিশেষ প্রিপারেশন মন কেড়েছে অতিথিদের।
নিরামিষাশীদের জন্য ছিল পনিরের একাধিক পদ ছিল। পাতে ছিল সালাদ, রায়তাও। খাবারের শেষে মিষ্টিমুখের হরেক রকম মিষ্টির পদ। ছিল খাস বেনারসি পানও। খাবার দাবার নিয়ে মধুমিতা সবসময়ই একটু শৌখিন, আর তার বিয়ের মেন্যুতে সেই ছাপ স্পষ্ট পাওয়া গেল।
এর আগেও ঘর বেঁধেছিলেন মধুমিতা। প্রথম মেগা সিরিয়াল ‘সবিনয় নিবেদন’ চলাকালীন সময়ে সৌরভ চক্রবর্তীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন অভিনেত্রী। ২০১৫ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে বিয়ে করেন মধুমিতা। তারপর ২০১৯ সালে বিচ্ছেদ হয় তাদের। এরপর থেকে নিজেকে ‘সিঙ্গল’ বলেই দাবি করেন টালি নায়িকা।
ছোট পর্দার হাত ধরেই প্রথম বিনোদন জগতে পা রেখেছিলেন মধুমিতা। ২০১১ সালে ‘সবিনয় নিবেদন’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে তিনি প্রথম টালিপাড়ায় আত্মপ্রকাশ করেন। ২০১৮ সালে, ‘কুসুমদোলা’ ধারাবাহিকের পরে দীর্ঘদিন বাংলা টেলিভিশন থেকে বিরতি নিয়েছিলেন। তারপর নানা ছবি ও সিরিজে নায়িকার দেখা মিলেছে।




