ঢাকা  সোমবার, ৩রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅপরাধমাজারে আঘাত করা অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ: প্রেস সচিব শফিকুল আলম

মাজারে আঘাত করা অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ: প্রেস সচিব শফিকুল আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক (সাভার): ‘বাংলাদেশ অলি-আউলিয়াদের দেশ, পীর-আউলিয়াদের দেশ। এ দেশে ইসলাম সম্প্রসারিত হয়েছে তাঁদের হাত ধরে। মাজারে আঘাত করা অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। কারও পছন্দ না হলে তিনি সেখানে না আসতে পারেন, কিন্তু আঘাত বা ভাঙচুর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ ঢাকার ধামরাই উপজেলার সানোড়া ইউনিয়নের বাটুলিয়া এলাকায় বুচাই পাগলার মাজার পরিদর্শনে এসে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

আজ শুক্রবার সকালে ঢাকার ধামরাই উপজেলার সানোড়া ইউনিয়নের বাটুলিয়া এলাকায় বুচাই পাগলার মাজার পরিদর্শনে আসেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি মাজারে দোয়ায় অংশ নেন। এ সময় তিনি জানান, মাজার ভাঙচুরের ঘটনায় সরকারিভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

শফিকুল আলম বলেন, ‘প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসে মাজারসংলগ্ন স্থানে বাউলগানের মেলা অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৪ সালে মাজারটি ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে সবাই মিলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখবে।’

২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বুচাই পাগলার মাজারে একদল ব্যক্তি হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি আদালত ধামরাই থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নিয়মিত মামলা দায়েরের আদেশ দেন। পুলিশ বাদী হয়ে দুজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। সম্প্রতি মাজারটি সংস্কার করা হয়েছে।

ঢাকার ধামরাই উপজেলার সানোড়া ইউনিয়নের বাটুলিয়া এলাকায় বুচাই পাগলার মাজার পরিদর্শনে আসেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। আজ শুক্রবার সকালে

গণভোটের বিষয়ে প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘মানুষ জানে, হ্যাঁ ভোটে যদি তারা সিল দেয়, তাহলে দেশে আর স্বৈরাচার, অনাচার ও অত্যাচার ফিরবে না। ব্যাংকে রাখা আমাদের টাকা কেউ লুট করে নিয়ে যাবে না। আমাদের ছোট ভাই-বোন, বাবা-মাকে কেউ গুম করবে না। আমরা এমন একটি শাসনব্যবস্থা পাব, যেটি মানুষের অধিকারকে অক্ষুন্ন রাখে, সমুন্নত রাখে।’

মাজার পরিদর্শনের সময় প্রেস সচিবের সঙ্গে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান মোহাম্মদ সালমান হাবীব ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিদওয়ান আহমেদ।

গত বছরের ১৮ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট থেকে পরবর্তী সাড়ে ৫ মাসে ৪০টি মাজার, সুফি সমাধিস্থল ও দরগাহে ৪৪টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার সময় ভাঙচুর, ভক্তদের ওপর আক্রমণ, মাজারের সম্পদ লুটপাট ও আগুন দেওয়ার অভিযোগ পেয়েছিল পুলিশ। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছিল, ৪৪টি হামলার ঘটনাতেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২৩ জনকে।

দেশে গত বছর ৪ আগস্ট থেকে পরবর্তী সাড়ে ৫ মাসে ৪০টি মাজার, সুফি সমাধিস্থল ও দরগাহে ৪৪টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলাকালে ভাঙচুর, ভক্তদের ওপর আক্রমণ, মাজারের সম্পদ লুটপাট ও আগুন দেওয়ার অভিযোগ পেয়েছে পুলিশ।

পুলিশের এই তথ্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। তারা আরও জানায়, ৪৪টি হামলার ঘটনাতেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২৩ জনকে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, মাঝারে হামলার সবচেয়ে বেশি ১৭টি ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ১০টি এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৭টি হামলার ঘটনা ঘটে।ময়মনসিংহ বিভাগের শেরপুর জেলায় একটি মাজারেই চার দফা হামলা চালানো হয়েছে।

হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী ও পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন থানায় ১৫টি মামলা এবং ২৯টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। দুটি মামলায় এরই মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। আরও ১৩টি মামলা এবং ২৯টি সাধারণ ডায়েরির তদন্ত চলছে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের ক্রাইম অ্যান্ড অপস শাখার উপমহাপরিদর্শক বলেন, মাজারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে পুলিশ কাজ করছে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সারা দেশের মাজার, সুফি–সমাধিস্থল ও দরগাহের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ যথাযথ সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পুলিশের কাছে অভিযোগ দিতে অনুরোধ করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে বিবদমান পক্ষগুলোর সঙ্গে শান্তি সভা আয়োজনের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

প্রেস উইং আরও বলেছে, অন্তর্বর্তী সরকার মাজারে যেকোনো হামলার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স (শূন্য সহনশীলতা) নীতি গ্রহণ করেছে। পুলিশের সব ইউনিটকে কঠোরভাবে মামলা তদন্ত এবং হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকার দেশের মাজার ও দরগাহগুলোর নিরাপত্তা ও সুরক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ৯ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে নানা সময়ে মাজারের পাশাপাশি কাওয়ালি গান বা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হামলা হয়েছে। এখন থেকে কোনো গানের আসর অথবা মাজারে হামলা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular