বিনোদন ডেস্ক: থাইল্যান্ডে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত একটি ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন হলো ‘ডেথ ফেস্টিভ্যাল’ বা ‘মৃত্যুর উৎসব’। এটি কোনো ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং আধুনিক সমাজে মৃত্যু নিয়ে মানুষের ভীতি কমানো এবং সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে চালু হওয়া একটি নতুন উদ্যোগ।

ব্যাংককের কাছাকাছি এলাকায় এই ইভেন্ট আয়োজন করা হয়। সেখানে নানা ধরনের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম একসঙ্গে উপস্থাপন করা হয়।
এই ফেস্টিভালের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হলো ‘কফিন এক্সপেরিয়েন্স’। এতে অংশগ্রহণকারীরা স্বেচ্ছায় একটি কফিনের ভিতরে কিছু সময় শুয়ে থাকেন, যেন তারা প্রতীকীভাবে মৃত্যুর পর কেমন হয়, তা উপলব্ধি করতে পারেন।
আয়োজকদের মতে, এই অভিজ্ঞতা মানুষের মনে জীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি সৃষ্টি করে এবং জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞতা বাড়ায়।
এছাড়া এই উৎসবে মৃত্যু-পরবর্তী পরিকল্পনা, স্বাস্থ্যসেবা, এবং পরিবারের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

অনেক স্টলে পরিবেশবান্ধব কফিন, ডিজিটাল স্মৃতি সংরক্ষণ এবং আধুনিক ফিউনারেল ব্যবস্থাপনার ধারণা তুলে ধরা হয়। ফলে এটি শুধু একটি অভিজ্ঞতামূলক ইভেন্ট নয়, বরং একটি জ্ঞানভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও কাজ করে।
এই আয়োজনের পেছনে থেরবাদ বৌদ্ধধর্ম-এর (বৌদ্ধধর্মের সবচেয়ে প্রাচীন ও সংরক্ষণশীল ধারাগুলোর একটি) দর্শনের প্রভাব রয়েছে, যেখানে মৃত্যু জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই দর্শন মানুষকে মৃত্যুকে ভয় না পেয়ে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে শেখায়।
ধর্মীয় এবং আধ্যাত্মিক দিক থেকেও থাইল্যান্ডের এই প্রাচীন সংস্কারের নতুন সংস্করণকে ইতিবাচক চোখে দেখছেন কেউ কেউ। বৌদ্ধপ্রধান এই দেশে মৃত্যুকে পুনর্জন্মের আগের এক বিরতি হিসেবে দেখা হয়। তাই শবাধারে শুয়ে এই ‘মক ডেথ’ বা কৃত্রিম মৃত্যু মানুষের ভেতরের অহংকার দূর করতে সাহায্য করে বলে স্থানীয়দের বিশ্বাস।




