নিউজ ডেস্ক : রাজধানীর ব্যস্ত কারওয়ান বাজার এলাকায় শুক্রবার (৪ জানুয়ারি) মোবাইল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মুখোমুখি সংঘর্ষের চিত্র দেখা গেছে। সোনারগাঁও হোটেলের মোড়ে অবস্থান করছিলেন কয়েকশ ব্যবসায়ী—এদের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রথমে সতর্কবার্তা দিলেও পরে জলকামান, লাঠিচার্জ এবং সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে; এতে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
ঘটনার শুরুটা ছিল এনইআইআর (ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার) পদ্ধতি চালু ও হ্যান্ডসেট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার প্রতিবাদে। বৃহস্পতিবার থেকেই এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করা হলে মোবাইল খাতের একাংশ অনড়ভাবে বিরোধিতা শুরু করে—তারা বলছেন, ইমপ্লিমেন্টেশন ঝটপটভাবে হলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং অবৈধ-মুদ্রিত, ক্লোনড হ্যান্ডসেট বিক্রির দায়ের মধ্যে অপ্রত্যাশিত বড় অপচয় ও আর্থিক খাটোতির সম্মুখীন হবেন। অন্যদিকে সরকারের যুক্তি হলো কর ফাঁকি ও নিম্নমানের ফোন আমদানি রোধ করতেই এনইআইআর বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী বেলা এগারোটার দিকে ব্যবসায়ীরা পরিবারসহ সড়কে অবস্থান নেন; পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দেয়ার সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠার আগে পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে বলে সংবাদে বলা হয়েছে। পরে ব্যবসায়ীরা ছত্রভঙ্গ হলে সড়ক খুলে দেওয়া হয়। সংঘর্ষের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে নগরীর বিভিন্ন প্রান্তে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ-প্রতিপক্ষ—সরকারি সূত্র বলছে, কারওয়ান বাজারের কিছু ব্যবসায়ী কাঠামোবদ্ধভাবে করফাঁকি ও অবৈধ আমদানির মাধ্যমে সস্তা, নিম্নমানের ও ক্লোনড ফোন বাজারে ছাড়ছে; এতে ভোক্তার ক্ষতি এবং সরকারি রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এনইআইআর পদ্ধতি ব্যবহার করলে এসব ফোন শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে—এমনটাই কর্তৃপক্ষের বক্তব্য। ব্যবসায়ীরা অবশ্য এই বাস্তবায়নের আগে পর্যাপ্ত গ্রেস-পিরিয়ড ও পরামর্শ-সহযোগিতা দাবি করেছেন।
ঘটনায় রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে; নাগরিকরা ট্রাফিক গোলযোগ, জনদুর্ভোগ ও নিরাপত্তা-জিজ্ঞাসা করছেন। কয়েকটি মিডিয়া রিপোর্টে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীদের ও প্রতিনিধি সংগঠনের সঙ্গে দ্রুত সংলাপ করে নির্মূলকরণ, বিকল্প নীতি ও সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে—এবং প্রশাসনও একই রূপরেখায় সংলাপ বাড়ানোর সংকেত দিয়েছে। তবে এখনই সমাধান নির্বাচন করা পরিবারের দায়িত্ব, ব্যবসার স্বার্থ ও আইন-প্রয়োগকে সঙ্গত হিসেবে দেখতে হবে।
সড়ক ও পরিবহনে ও যাত্রাবাহন ব্যবস্থায় প্রভাব পড়ায় নগরবাসীকে বিকল্প রুট নেওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে; যারা ওই এলাকায় কাজ বা যাওয়ার কথা তাদের সাময়িকভাবে ভ্রমণসূচি পরিবর্তন করতে বলা হয়েছে। ব্যবসায়িদেরও সতর্ক করা হয়েছে—শান্তিপূর্ণ আড্ডা ও প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতামূলক সমাধান খোঁজার পথেই এগোতে হবে; আইনি সীমা অতিক্রম করলে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও ঘোষিত হয়েছে।
ঢাকানিউজ২৪/মহফ




