ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeতথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞানমোবাইল রেডিয়েশনের কারণে কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই : বিটিআরসি

মোবাইল রেডিয়েশনের কারণে কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই : বিটিআরসি

নিউজ ডেস্ক: মোবাইল ফোন এবং মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশন থেকে পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত রয়েছে যশোর জেলা। যশোরে আন্তর্জাতিক সীমার চেয়ে অনেক কম মাত্রার রেডিয়েশন পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর স্পেকট্রাম বিভাগের কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইকবাল আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি অহেতুক ভীতি এড়িয়ে প্রযুক্তির উৎকর্ষতার সাথে তাল মিলিয়ে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

৪ আগস্ট (মঙ্গলবার) বিটিআরসির উদ্যোগে যশোর জেলায় ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড (ইএমএফ) রেডিয়েশন পরিবীক্ষণ কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে টেলিযোগাযোগ সেবা সম্পর্কিত এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। যশোর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা কালেক্টরেট ভবনের সম্মেলন কক্ষ ‘অমিত্রাক্ষর’-এ এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

যশোরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিটিআরসি কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইকবাল আহমেদ।

বিটিআরসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড (ICNIRP) অনুযায়ী রেডিয়েশনের নিরাপদ সীমা ৬১ ভি/এম (ভোল্ট প্রতি মিটার)। অথচ বিটিআরসির বিশেষজ্ঞ টিম চলতি মাসে যশোরে পরিমাপ করে দেখেছে যে, জেলায় সবচেয়ে বেশি রেডিয়েশন পাওয়া গেছে কোতোয়ালি থানা মোড়ে যার মাত্রা ১৯ দশমিক ৮৯ ভি/এম, যা আন্তর্জাতিক সীমার অনেক নিচে। আর সর্বনিম্ন রেডিয়েশন পাওয়া গেছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে, মাত্র ০ দশমিক ২৮ ভি/এম। জেলার অন্য কোনো স্থানে রেডিয়েশনের মাত্রা ৫ ভি/এম অতিক্রম করেনি। ফলে বিটিআরসির প্রতিনিধি দল সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যশোরে মোবাইল রেডিয়েশনের কারণে কোনো ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই।

সভায় বিটিআরসি কমিশনার জানান, মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশন আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের চেয়ে অনেক কম এবং এটি স্বাস্থ্যঝুঁকিমুক্ত। “নন-আয়োনাইজড” এই তরঙ্গ নিয়ে জনমনে আতঙ্ক দূর করে মানসম্মত টেলিযোগাযোগ সেবা নিশ্চিত করতে টাওয়ার স্থাপনে বাধা না দেওয়ারও আহ্বান তিনি।

তিনি বলেন, শিশুদের হাতে অতিরিক্ত মোবাইল তুলে দেওয়া অত্যন্ত আতঙ্কের বিষয়। শিশুদের খাওয়ানো বা শান্ত রাখার জন্য ছোটবেলা থেকেই মোবাইল ফোন হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। এতে তাদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, মেধা এবং সৃজনশীলতা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি অভিভাবকদের এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার, যশোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খানসহ বিটিআরসির কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন মোবাইল অপারেটর ও টেলিযোগাযোগ খাতের অংশীজন এবং স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular