ঢাকা  সোমবার, ৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ১৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeকৃষিবিলুপ্তপ্রায় প্রাণী রক্ষা জরুরি : ফরিদা আখতার

বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী রক্ষা জরুরি : ফরিদা আখতার

নিউজ ডেস্ক : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, দেশের বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীকে সংরক্ষণ করে তাদের স্বাভাবিক বাসস্থানে ফিরিয়ে আনা এখন সময়োপযোগী ও নিত্যান্ত জরুরি কাজ।

রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) আয়োজিত ‘পার্বত্য অঞ্চলের প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন গবেষণা পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফরিদা আখতার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত প্রলয় মুখে প্রাণীর আচরণ ও উৎপাদন ক্ষমতায় পরিবর্তন আনছে, এই প্রেক্ষাপটে স্থানীয় প্রজাতির নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা অপরিহার্য।

তিনি বিদেশী ব্রয়লার-লেয়ার কৃষির উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশুর জাত সংরক্ষণে জোর দিয়েছেন এবং সময়মতো টিকা প্রয়োগের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন, কারণ সঠিক সময়ে ভ্যাকসিন না দিলে রোগ দ্রুত ছড়িয়ে গেলে খামারিরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হন।

উপদেষ্টা বলেন, মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা তরুণদের পোল্ট্রি ও ডেইরি খাতে সম্পৃক্ত করতে হবে, তাতে আধুনিকায়ন ত্বরান্বিত হবে এবং তৃণমূল পর্যায়ে উদ্যোক্তারা উন্নত প্রযুক্তি পড়াশোনা করে নিজেদের খামারকে সুস্থভাবে চালাতে পারবে।

একই সঙ্গে তিনি মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য তুলে ধরে নিম্ন পর্যায়ের খামারিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। ফিড ও ইনপুটের ওপর আমদানির নির্ভরতা কমাতে দেশে ভুট্টা ও সয়াবিন চাষ বাড়ানোর ওপর তিনি জোর দেন, এসহ উদ্যোগে উৎপাদন খরচ কমবে ও ভোক্তা সাশ্রয় পাবেন।

কর্মশালায় বিএলআরআই মহাপরিচালক ডা. শাকিলা ফারুক সভাপতিত্ব করেন; জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষজনেরা উপস্থিত ছিলেন। অন্যান্য বক্তারা পার্বত্য অঞ্চলে প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে গবেষণা ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা, স্থানীয় সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততা ও জৈববৈচিত্র্য রক্ষার কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় অংশ নেন। উপদেষ্টা অনুষ্ঠানে ইনস্টিটিউটের গবেষণাগার ও সংরক্ষিত প্রাণীর শেড পরিদর্শন করে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দেন।

ফরিদা আখতার বলেন, বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির সংরক্ষণ কেবল প্রাণীর জন্য নয়—এটি মানুষের জনস্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা ও দেশের পরিবেশগত স্থিতিশীলতার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই সময়োপযোগী নীতি, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ, বৈজ্ঞানিক মনিটরিং ও আর্থিক সহায়তা ছাড়া প্রকৃত সুরক্ষা সম্ভব হবে না।

তিনি স্থানীয় খামারিদের জীবনমান বাড়াতে সরকারি সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাসও দেন।

পার্বত্য ও উপকূলীয় অঞ্চলে হারিয়ে যাওয়া প্রজাতির পুনরুদ্ধার ও দেশীয় গবাদিপশু-পরিচয়ের সংরক্ষণ এখন সময়ের দাবি। ফরিদা আখতারের আহ্বান, গবেষণা, শিক্ষিত তরুণদের সম্পৃক্তকরণ ও স্থানীয় কৃষিকে শক্ত করে দেশকে যেন প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ রাখা যায়, এটাই দেশের দীর্ঘমেয়াদী খাদ্য ও পরিবেশ নিরাপত্তার রক্ষাকবচ।

ঢাকানিউজ২৪/মহফ

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular