ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅপরাধযমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিটিই’দের পকেট ভরতে দুর্নীতির চিরুনি অভিযান

যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিটিই’দের পকেট ভরতে দুর্নীতির চিরুনি অভিযান

ময়মনসিংহ ব্যুরো :  ঢাকা থেকে তারাকান্দির উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর ট্রেন যমুনা এক্সপ্রেস (ট্রেন নং-৭৪৫)-এ টিকিট পরিদর্শনের নামে টিকিটের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ট্রেনের দুইজন ট্রাভেলিং টিকিট এগজ়ামিনারের (টিটিই) বিরুদ্ধে। টিকিটবিহীন যাত্রীদের জরিমানা করার ক্ষমতা ব্যবহার করে তারা সরকারি রাজস্ব তছরূপের অভিযোগের সম্মুখীন হয়েছেন।

তারাকান্দিতে যাবার সময় ওই ট্রেনের যাত্রীরা জানান, গত রবিবার ১৯ অক্টোবর প্রায় পৌনে দুই ঘন্টা বিলম্বে ময়মনসিংহ জংশন স্টেশন থেকে তারাকান্দির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় যমুনা এক্সপ্রেস আন্তঃনগর ট্রেন। এসময় ট্রেনের দুই টিটিই একটি ‘চিরুনি’ অভিযান চালান। এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হওয়ার কথা যাত্রীদের কাছ থেকে বৈধ টিকিট, ভ্রমণ পরিচয়পত্র ও আসন বরাদ্দ যাচাই করা এবং টিকিটবিহীন যাত্রীদের শনাক্ত করে প্রাপ্য ভাড়া ও জরিমানা আদায় করে সরকারি রাজস্ব তহবিলে জমা দেওয়া। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এই দায়িত্ব পালনের সময় কয়েকজন টিকিটবিহীন যাত্রীর কাছ থেকে প্রাপ্য ভাড়া ও জরিমানা বাবদ হাজার হাজার টাকা নেওয়া হলেও তা রসিদ ছাড়াই, সরাসরি তাদের ব্যক্তিগত পকেটে ভরেছেন ওই দুই টিকিট পরিদর্শক।

ময়মনসিংহ ষ্টেশন থেকে পিয়ারপুরের যাত্রী ভ্যান চালক শফিকুল ইসলাম বলেন, তারা ময়মনসিংহে চিকিৎসার জন্য স্ত্রী ও কণ্যাকে ফেরার সময় টিকেট কাটেনি, ভাড়া ৪০ টাকা করে ১২০ টাকা হয়। টিটিই স্যাররা নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা চাইলেন। বললেন, রসিদ করলে জরিমানা বেশি পড়বে, ক্যাশে দিলে কম নিবেন। ভয়ে আমরা ১০০ টাকা দিয়ে দিই। পরে দেখি তারা টাকাটা নিজেদের পকেটে রাখলেন। এরকম ওই বগির অধিকাংশ যাত্রীদের কাছ রশিদ ছাড়া টাকা নিতে দেখেন শফিকুল ইসলাম।

সরিষাবাড়ির যাত্রী মোঃ হামিদুল হক নামের
আরেক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এরা রক্ষকই হয়ে গেল ভক্ষক। সরকারের রাজস্ব বাড়ানোর জন্য যাদের নিয়োগ, তারাই তছনছ করছে। আমাদের মতো সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছে।”

এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে- টিআইসি শাহীনুল ইসলাম জানান, “টিকিট পরিদর্শকদের এমন কোনো আচরণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তাদের আদায়কৃত টাকা রসিদ করে নির্দিষ্ট ফর্মে জমা দিতে হয়। এ ধরনের অনিয়মের কোনো রিপোর্ট আমাদের কাছে এলে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “যাত্রীরা যদি রসিদ না পান অথবা সন্দেহ করেন, তাহলে তারা সাথে সাথে রেলওয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ বা সংশ্লিষ্ট স্টেশনের স্টেশন মাস্টারকে ফোন করে অভিযোগ করতে পারেন।”

এসব দুর্নীতি রোধ ও স্বচ্ছতা আনতে রেলওয়ের বিশেষজ্ঞরা জানান, ডিজিটাল লেনদেন বাধ্যতামূলককরণ: টিকিট পরিদর্শকদের জন্য হাতে নগদ টাকা নেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, নগদ ইত্যাদি) বা পস মেশিনের মাধ্যমে জরিমানা আদায়ের ব্যবস্থা করা যায়। এতে লেনদেনের ডিজিটাল রেকর্ড থাকবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট টিটিইদের বরখাস্তসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে অন্যরা শিক্ষা নেয়।
যাত্রীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। তাদের জানাতে হবে যে, টিকিট বা জরিমানার টাকার জন্যই তাদেরকে রসিদ নিতে হবে এবং রসিদ ছাড়া টাকা দেওয়া বেআইনি।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে তাদের গোপন এজেন্টকে যাত্রী সাজিয়ে টিকিট পরিদর্শকদের ওপর নজরদারি করতে পারে।

যমুনা এক্সপ্রেসের এই ঘটনা রেলওয়ে বিভাগের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি ও তদারকির ঘাটতি চিত্র ফুটে তুলেছে। রেলওয়ে দেশের একটি গুরুত্বপপরিবহন খাত, কিন্তু এভাবে রাজস্ব তছরূপ হলে সরকারের আয় ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সাধারণ যাত্রীরা হয়রানির শিকার হন। এই অপকর্ম বন্ধ করতে কর্তৃপক্ষের কঠোর ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ জরুরি।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular