ঢাকা  সোমবার, ৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeতথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞানযাচাইবিহীন প্রতিবেদনে সাংবাদিকদের ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে

যাচাইবিহীন প্রতিবেদনে সাংবাদিকদের ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে

নিউজ ডেস্ক:  খসড়া সাইবার অপরাধ আইনের অধীনে ‘যাচাইবিহীন’ প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য বাংলাদেশের সাংবাদিকদের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিক সুরক্ষা কমিটি (সিপিজে) বলেছে, বাংলাদেশ সরকারকে সাইবার সুরক্ষা আইনে প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে অথবা এতে ব্যাপক সংশোধন আনতে হবে।

কর্মকর্তাদের মতে, এসব সংশোধনীর মাধ্যমে যাচাইবিহীন প্রতিবেদন প্রকাশকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষকে সাংবাদিকদের কাজ বন্ধ করে দেওয়া এবং সংবাদমাধ্যমের নিবন্ধন বাতিলের ক্ষমতাও দেওয়া হতে পারে।

একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ১০ সেপ্টেম্বরের একটি পরামর্শ সভায় গণমাধ্যমের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে যে খসড়া সংশোধনী নিয়ে আলোচনা করেছে, তাতে অনলাইনে ‘গুজব’ ও ‘ভুল তথ্য’ ছড়ানোর জন্য নতুন একটি ফৌজদারি অপরাধের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড বা মোটা অঙ্কের জরিমানার বিধান রাখা হতে পারে।

বিলটির বর্তমান খসড়া অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষ যদি কোনো অনলাইন বিষয়বস্তুকে ‘অপ্রমাণিত’ বা ‘যাচাইবিহীন’ বলে মনে করে এবং সেটি জনমনে বিভ্রান্তি, আতঙ্ক বা অস্থিরতা সৃষ্টি করে, তাহলে তা আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এসব মামলার বিচার হবে বিশেষায়িত আদালত সাইবার ট্রাইব্যুনালে, যেখানে বাংলাদেশের ডিজিটাল ও সাইবার আইনসংক্রান্ত মামলার বিচার হয়।

আইন লঙ্ঘনের জন্য সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকেও দায়ী করা হতে পারে। কোনো প্রতিষ্ঠান দোষী সাব্যস্ত হলে আদালত তার কার্যক্রম পরিচালনার নিবন্ধন স্থগিত বা বাতিলের নির্দেশ দিতে পারবে।

সিপিজের এশিয়া-প্যাসিফিক প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর কুনাল মজুমদার বলেন, ‘বাংলাদেশের সাইবার সুরক্ষা আইনে প্রস্তাবিত ব্যাপক সংশোধনীগুলো এতটাই বিস্তৃত যে- এগুলো সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে। সাংবাদিকদের অবশ্যই স্বাধীনভাবে উৎস থেকে পাওয়া এবং তথ্য-যাচাই করা তথ্য প্রকাশের সুযোগ থাকতে হবে, যার মধ্যে কর্তৃপক্ষের অনুমোদনহীন তথ্যও রয়েছে। সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করতে সাইবার অপরাধ আইনের অপব্যবহারের ইতিহাস বাংলাদেশে রয়েছে। ভুল তথ্য দমনের আড়ালে বর্তমান সরকারের সেই ধারার পুনরাবৃত্তি করা উচিত নয়।’

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশৃঙ্খলা রোধ এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার লক্ষ্যেই সংশোধনীগুলোর খসড়া তৈরি করা হয়েছে।

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ আইন ব্যবহারের নজির বাংলাদেশে রয়েছে। পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে অনলাইন বাক্‌স্বাধীনতা ও ডিজিটাল অপরাধসংক্রান্ত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে অন্তত ২৫৫ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। এই আইনে অভিযুক্ত লেখক মোশতাক আহমেদ বিচারপূর্ব আটক অবস্থায় ৯ মাস থাকার পর মারা যান।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে মন্তব্যের জন্য সিপিজে ই-মেইলে অনুরোধ জানালেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular