ঢাকা  সোমবার, ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআন্তর্জাতিকযুক্তরাষ্ট্রে থেকেই গ্রিনকার্ডের আবেদন করতে পারবেন

যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই গ্রিনকার্ডের আবেদন করতে পারবেন

নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিনকার্ডের আবেদন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে মার্কিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (ডিএইচএস)। মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, সব আবেদনকারীকে নিজ দেশে ফিরে গিয়ে আবেদন করার প্রয়োজন নেই।

গত ২২ মে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, অস্থায়ী ভিসাধারীরা যুক্তরাষ্ট্রে থেকে গ্রিনকার্ডের আবেদন করতে পারবেন না। তাদের নিজ দেশে ফিরে দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। ডিএইচএসের এক মুখপাত্র বলেন, ২২ মে’র বিজ্ঞপ্তির উদ্দেশ্য ছিল শুধু কর্মকর্তাদের বিবেচনামূলক ক্ষমতার কথা মনে করিয়ে দেওয়া। এটা কোনো বাধ্যতামূলক নিয়ম নয়।

মুখপাত্র আরও জানান, যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে অথবা যেসব দেশের নাগরিকরা ব্যাপকভাবে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল, তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রয়োগ হতে পারে। তবে সবার জন্য একই নিয়ম নয়।

গ্রিনকার্ড হলো যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস ও কাজ করার অনুমতিপত্র। এর মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া যায় না, তবে নাগরিকত্বের পথে প্রথম বড় ধাপ এটি।

২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিবাসন নিয়ে বেশ কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। গত দেড় বছরে লাখ লাখ নথিবিহীন অভিবাসী ও মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসাধারীকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

প্রথমে ২২ মে’র বিজ্ঞপ্তিকে অনেকে ট্রাম্প প্রশাসনের আরেকটি কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখেছিলেন। কিন্তু এখন এটিকে ‘ইউ-টার্ন’ বলে অভিহিত করছে নিউইয়র্ক টাইমস।

ডেমোক্র্যাট দলের আইনপ্রণেতা ও অভিবাসন আইনজীবীরা প্রথম বিজ্ঞপ্তির তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, এতে পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে, খরচ বাড়বে এবং অভিবাসন ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে।

বর্তমানে ইউএসসিআইএস কর্মকর্তারা আবেদনকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন। তারা জানতে চাইছেন, কেন আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকেই আবেদন করতে চান এবং দেশে ফিরে আবেদন করতে তাদের কোনো সমস্যা আছে কি না।

প্রযুক্তি খাতের নেতারা এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, এই নীতি আমেরিকান টেক কোম্পানিগুলোর জন্য বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। কারণ এসব কোম্পানি বিদেশি দক্ষ পেশাদারদের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল, যারা পরে গ্রিনকার্ড ও নাগরিকত্বের আশায় থাকেন।

অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবেন সংশ্লিষ্ট অভিবাসন কর্মকর্তারা। তাই এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তবে সতর্ক থাকা জরুরি।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular