ঢাকা  রবিবার, ২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআন্তর্জাতিকযুক্তরাষ্ট্র-ইরানের বৈঠক ‘ইতিবাচক’

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের বৈঠক ‘ইতিবাচক’

নিউজ ডেস্ক : সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা ‘ইতিবাচক’ হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান। গত মঙ্গলবার প্রথম দিনের আলোচনা ‘একগুচ্ছ নীতিমালা নির্দেশিকা’ নিয়ে সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে শেষ হয়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, উভয় পক্ষই সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া বিনিময় করতে সম্মত হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, উভয় পক্ষের অগ্রগতি হয়েছে।

গতকাল বুধবার দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে। এতে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যতটা ইতিবাচক ছিলেন, ততটাই অস্পষ্ট ছিলেন। কী আলোচনা হয়েছে বা পরবর্তী দফায় আলোচনা কখন অনুষ্ঠিত হতে পারে, সে বিষয়ে খুব কম স্পষ্ট করেছেন। মার্কিন এক কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কিছু ফাঁক পূরণের জন্য তেহরান আগামী দুই সপ্তাহে আরও বিস্তারিত প্রস্তাব দেবে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, জেনেভায় অনুষ্ঠিত প্রায় তিন ঘণ্টা স্থায়ী আলোচনা ‘বেশ গঠনমূলক’ ছিল। এ মাসে ওমানে অনুষ্ঠিত আগের দফায় আলোচনার তুলনায় ‘ভালো অগ্রগতি’ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে এখন একটি স্পষ্ট পথ রয়েছে, যা আমার দৃষ্টিতে ইতিবাচক।’ তবে তিনি এও বলেন, খুব শিগগিরই কোনো চুক্তি দৃশ্যমান নয়।

এমন এক সময়ে এ আলোচনা চলছে, যখন যুদ্ধের ঝুঁকিতে রয়েছে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য। এ আলোচনা ভেঙে গেলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলাও চালাতে পারে। এরই মধ্যে ওই অঞ্চলে দুটি রণতরী মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান জোর দিয়ে বলেছে, আলোচনা কেবল তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। আর মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, তারা ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের তৈরি ঠেকানো ও ওই অঞ্চলে সশস্ত্র যোদ্ধাদের প্রতি সমর্থন ঠেকানোর ওপরও বেশি জোর দেবেন। আরাঘচি ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া তাঁর বক্তব্যে জানান, আলোচনা চালিয়ে যাওয়া ও সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া তৈরির দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য উভয় পক্ষ ‘নির্দেশিকা নীতির একটি সেটের ওপর সাধারণ সমঝোতায়’ পৌঁছেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও প্রকাশ্যে কূটনীতির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। গতকাল বুধবার আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ইঙ্গিত দিয়েছেন– তাঁর দেশ কূটনীতি পছন্দ করে। তবে তিনি মিশ্র প্রতিক্রিয়াও জানিয়েছেন। ভ্যান্স ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, কিছু দিক থেকে সবকিছু ভালো হয়েছে; তারা পরে আবার সাক্ষাত করতে রাজি হয়েছেন। দ্য স্টোরি উইথ মার্থা ম্যাকক্যালাম অনুষ্ঠানে ভ্যান্স বলেন, ‘কিন্তু অন্য দিক থেকে এটা খুব স্পষ্ট ছিল– প্রেসিডেন্ট কিছু লালরেখা নির্ধারণ করেছেন, যা ইরানিরা এখনও স্বীকার করতে ও কাজ করতে ইচ্ছুক নয়।’

মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘ডোবানোর’ হুঁশিয়ারি খামেনির
জেনেভায় দ্বিতীয় দফা পারমাণবিক আলোচনা শুরুর দিনই যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। বার্তা সংস্থা আনাদোলু লিখেছে, তিনি বলেছেন– পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো চাইলে ‘সমুদ্রের তলদেশে ডুবিয়ে দেওয়া’ সম্ভব। তেহরানে এক অনুষ্ঠানে খামেনি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনীও এমন আঘাত পেতে পারে, যেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন।

খামেনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বারবার যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর কথা বলছে। যুদ্ধজাহাজ নিঃসন্দেহে বিপজ্জনক। তবে এমন অস্ত্রও রয়েছে, যা সেই জাহাজকে সমুদ্রের তলদেশে ডুবিয়ে দিতে পারে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular