নিউজ ডেস্ক : ২৯ জুলাই বুধবার, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র শুভ আষাঢ়ী পূর্ণিমা-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর বাসাবো বৌদ্ধ মন্দিরে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের শিল্পীদের মনোমুগ্ধকর ওড়িশী নৃত্য পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শিল্পীদের পরিবেশনার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং দুই দেশের সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দীনেশ ত্রিবেদী সম্প্রতি বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেন ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (আইজিসিসি), ভারতীয় হাইকমিশন, ঢাকা এবং সহযোগিতা করে বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সাংস্কৃতিক আবহে অনুষ্ঠিত এই আয়োজন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পাশাপাশি সংস্কৃতিপ্রেমীদেরও ব্যাপক সাড়া ফেলে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বাংলাদেশের একমাত্র ওড়িশী নৃত্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ওড়িশী অ্যান্ড টেগোর ডান্স মুভমেন্ট সেন্টার (ওটিডিএমসি), চট্টগ্রাম-এর ২১ জন শিল্পীর পরিবেশিত বিশেষ নৃত্যনাট্য। শৈল্পিক উপস্থাপনা, নান্দনিক কোরিওগ্রাফি, সুর, তাল ও আধ্যাত্মিক আবহে সমৃদ্ধ পরিবেশনাটি উপস্থিত দর্শকদের গভীরভাবে মুগ্ধ করে।
নৃত্যনাট্যে অংশ নেন প্রমা অবন্তী, তুষি ভট্টাচার্য, ময়ূখ সরকার, মৈত্রী চক্রবর্তী, অবন্তী বড়ুয়া, অর্পিতা দাশ, সপ্তর্ষি দাশ প্রজ্ঞা, সরিমা সরকার, সমৃদ্ধি বড়ুয়া, জেমিমা খান, শ্রেয়সী গুপ্ত, ময়ূরাক্ষী দাশ গুপ্তা, পূজা দেব, সুমেধ বড়ুয়া, সুজয় বাছার, ভাষ্কর রায়, শুভ্র বড়ুয়াসহ মোট ২১ জন নৃত্যশিল্পী। তাঁদের পরিবেশনা অনুষ্ঠানে এক ভিন্নমাত্রা যোগ করে।
নৃত্যনাট্যের ভাবনা ও নৃত্য নির্মাণ করেন বিশিষ্ট ওড়িশী নৃত্যশিল্পী প্রমা অবন্তী। প্রযোজনা অধিকর্তার দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক ড. কুন্তল বড়ুয়া এবং ধারাভাষ্য প্রদান করেন অভ্র বড়ুয়া। তাঁদের সৃজনশীল পরিকল্পনা ও দক্ষ উপস্থাপনা দর্শকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে।
অনুষ্ঠানে কূটনৈতিক, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পরিবেশনা শেষে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ওটিডিএমসির শিল্পীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, নৃত্যের মাধ্যমে ভারত ও বাংলাদেশের অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অত্যন্ত সুন্দরভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। তিনি শিল্পীদের নিষ্ঠা, শৈল্পিক উৎকর্ষ এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে শাস্ত্রীয় নৃত্যচর্চা বিস্তারে তাঁদের অবদানেরও প্রশংসা করেন। সাম্প্রতিক সময়ে আইজিসিসির বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ নিয়ে তিনি দুই দেশের সাংস্কৃতিক বিনিময়কে আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনদের মতে, এ ধরনের আয়োজন বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক সাংস্কৃতিক সম্পর্ক, সৌহার্দ্য ও ঐতিহ্যভিত্তিক বন্ধুত্বকে আরও সুসংহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের শিল্পীদের অনবদ্য পরিবেশনা দেশের শাস্ত্রীয় নৃত্যচর্চার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।




