নিউজ ডেস্ক : সরকার রাজধানীর পরিকল্পিত ও দুর্যোগ-সহনশীল উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সম্প্রতি “রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) অধ্যাদেশ, ২০২৬” জারি করেছে; একই সঙ্গে ১৯৫৩ সালের টাউন ইমপ্রুভমেন্ট অ্যাক্ট বিলোপ করে নতুন বিধান কার্যকর করা হয়েছে।
অধ্যাদেশে কড়া শাস্তির ধারা রাখা হয়েছে, অনুমোদিত নকশা বহির্ভূতভাবে ভবন নির্মাণ করলে দণ্ডিত হবেন নির্মাণকারী: সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা ৫০ লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে। এসব নিয়ম লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে রাজউক নিয়মিত তদারকি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবে।
কৌশলগত পরিকল্পনা বা বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) লঙ্ঘন বা জলাশয়-ভরাটের ক্ষেত্রে অধ্যাদেশ আরও কড়াকড়ি রাখে, স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান বা ড্যাপ অনুপালনে পরিবর্তন করার অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা জরিমানা ও ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান নির্দিষ্ট করা হয়েছে। নদী, খাল-বিল বা প্রাকৃতিক জলাধার বাধাগ্রস্ত করার ক্ষেত্রে প্রথমবার অপরাধ করলে দুই বছরের জেল, পুনরাবৃত্ত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের জেল ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা হবে।
অধ্যাদেশে শুধু সাধারণ নাগরিক নয়, রাজউকের কোনো কর্মকর্তা যদি নকশা বহির্ভূত নির্মাণে যোগসাজশ করে বা নীরবতা অবলম্বন করে, তাকেও শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে; দুর্নীতি ও অনিয়মের দায়ে দুই বছরের জেল বা ১০ লাখ টাকা জরিমানাসহ ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। এতে কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
আইনি কাঠামো আধুনিক করে, অধ্যাদেশে কৌশলগত নগর পরিকল্পনা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, ড্যাপ ও স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান ছাড়া উন্নয়ন কার্যক্রম চলবে না। পাশাপাশি ভূমি পুনর্বিন্যাস, উন্নয়ন-স্বত্ব বিনিময় ও গৃহহীন বা উচ্ছৃঙ্খলভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও প্লট/ফ্ল্যাট প্রদানের নিশ্চয়তা রাখা হয়েছে। রাজউক সেবাগুলো ডিজিটাল করে, বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত ওয়েবসাইটে প্রকাশসহ স্বচ্ছতা বাড়ানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অধ্যাদেশটি ঢাকা মহানগরী, কেরানীগঞ্জ, সাভার, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের রাজউক-নিয়ন্ত্রিত এলাকা প্রযোজ্য হবে। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী এটি অবিলম্বে কার্যকর হবেওি। লক্ষ্য, রাজধানীর অপরিকল্পিত নগরায়ণ রোধ, পরিবেশগত ভারসাম্য, ও দুর্যোগ-সহনশীল নগর নির্মাণ নিশ্চিত করা।
ঢাকানিউজ২৪/মহফ




