ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআন্তর্জাতিকরাজনীতির ভাষায় একটি অসতর্ক শব্দই যথেষ্ট

রাজনীতির ভাষায় একটি অসতর্ক শব্দই যথেষ্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) হলো একটি ব্যঙ্গাত্মক ও প্রতীকী নাগরিক আন্দোলন। পরীক্ষা প্রশ্নপত্র ফাঁসবিরোধী আন্দোলন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং বেকারত্ব ও মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে এই আন্দোলন বর্তমানে জোরালো আকার ধারণ করেছে। 
 
আন্দোলনের পটভূমি ও নামকরণ: ২০২৬ সালের ১৬ মে দিল্লিতে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত একদল বেকার তরুণকে ‘তেলাপোকা’ ও ‘সমাজের পরজীবী’ বলে মন্তব্য করেন। 
 
প্রতিষ্ঠাতা: যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ভারতীয় শিক্ষার্থী রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ অভিজিৎ দীপ ১৬ মে ২০২৬ সালে এই প্ল্যাটফর্মটি চালু করেন। এটি ভারতের নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত কোনো রাজনৈতিক দল নয়, বরং নামটি ছিল ক্ষমতাসীন দল বিজেপির প্যারোডি, তরুণদের একটি প্রতিবাদী মঞ্চ।

সংসদ চলো কর্মসূচি: গত ২০ জুলাই ২০২৬ তারিখে হাজার হাজার শিক্ষার্থী দিল্লির সংসদ ভবন অভিমুখে মার্চ করলে পুলিশের সাথে তীব্র সংঘর্ষ হয়। পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে প্রায় ৬০ জন বিক্ষোভকারী ও ১১৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।

দিল্লি আন্দোলন: বর্তমানে বিক্ষোভকারীরা দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিবাদস্বরূপ অনেকে মাথায় তেলাপোকার প্রতীক বা মূর্তি পরে বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন।

কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী ও তাঁর বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রকেও পুলিশ আটক করলেও আন্দোলন থামেনি। বিক্ষোভকারীরা তাদের মাথায় তেলাপোকার মূর্তি ধারণ করে স্লোগান দিচ্ছে—‘আমরা তেলাপোকা, আমরা থাকব, আমরা জিতব!’

আলোচনা প্রত্যাখ্যান: গত ২৩ জুলাই সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা আন্দোলনকারীদের আলোচনার প্রস্তাব দিলেও সিজেপি তা প্রত্যাখ্যান করে। তাদের দাবি, সরকারের প্রতিনিধিদলকে নিরপেক্ষ স্থান বা যন্তর মন্তরে এসে আলোচনা করতে হবে। 
 

নেতার বিরতি: অতিরিক্ত পরিশ্রম ও অসুস্থতার কারণে আন্দোলনের প্রধান মুখ অভিজিৎ দীপকে সাময়িকভাবে বিরতি নিলেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কর্মীরা।

‘মামুলি বিষয়’: প্রশ্নপত্র ফাঁসকে অনেক সময় ‘মামুলি বিষয়’ হিসেবেই দেখা হয়েছে। কিন্তু এই ‘মামুলি’ বিষয়ই একদিন প্রকট আকার ধারণ করতে পারে, যেমনটি দিল্লিতে হচ্ছে। সুতরাং, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সমস্যার স্থায়ী সমাধান জরুরি, নইলে এই চক্র ভাঙা সম্ভব নয়।

একসূত্রে গাঁথা: বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই আন্দোলনগুলো একসূত্রে গাঁথা—রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি গভীর হতাশা, অর্থনৈতিক বৈষম্য, আর শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সংকট। 

আন্দোলনের ছড়িয়ে পড়া: প্রথমত, প্রধান বিচারপতির একটি অসতর্ক শব্দ ভাষার রাজনীতির আগুন জ্বালানোর জন্য যথেষ্ট ছিল। মন্তব্যের পরদিনই অভিজিৎ দীপকে এক্স (টুইটার) ও ইনস্টাগ্রামে আন্দোলনের ডাক দেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা ভাইরাল হয়।

দ্বিতীয়ত, মিম ও ব্যঙ্গের ভাষা তরুণদের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য। চিরাচরিত স্লোগানের পরিবর্তে তারা ব্যঙ্গ, বিদ্রূপ ও প্রতীকী লড়াই বেছে নিয়েছে। ‘তেলাপোকা’—যে শব্দটি তাদের অপমান করতে ব্যবহার করা হয়েছিল—সেটিকেই তারা নিজেদের শক্তির প্রতীক বানিয়েছে।

তৃতীয়ত, তাৎক্ষণিক সংগঠন—মেসেঞ্জারে একটি টেক্সট পাঠাতে যতটুকু সময় লাগে, ততটুকু সময়েই তারা সংগঠিত হতে পারে। হাজার হাজার তরুণ রাতারাতি জড়ো হতে পারে।

চতুর্থত, ভাইরাল ভিডিও—পুলিশের লাঠিচার্জের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা জনরোষ আরও বাড়িয়ে দেয়। এই প্রযুক্তির শক্তিকেই কাজে লাগিয়েছে ভারতের তরুণেরা।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular