নিউজ ডেস্ক : গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঘটনা, বিশেষ দিবস, ঐতিহাসিক অর্জন এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বিভিন্ন উপলক্ষ স্মরণীয় করে রাখতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্মারক মুদ্রা ও স্মারক নোট ইস্যু করে। বাংলাদেশেও এ ধরনের মুদ্রা ও নোটের একটি সমৃদ্ধ সংগ্রহ গড়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশের স্মারক নোটগুলোর মধ্যে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন জাতীয় ইতিহাস ও অর্জনের প্রতিফলন দেখা যায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যভাণ্ডারে স্মারক নোটগুলোর নকশা, অভিহিত মূল্য ও ইস্যুর তারিখও সংরক্ষিত রয়েছে।
বাংলাদেশে স্মারক মুদ্রা ইস্যুর ইতিহাসও বেশ পুরোনো। ১৯৯২ সালের বার্সেলোনা অলিম্পিক উপলক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি রৌপ্য স্মারক মুদ্রা ইস্যু করেছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত মুদ্রা ও নোটবিষয়ক গ্রন্থে ওই মুদ্রার নকশা ও জার্মানিতে মুদ্রিত হওয়ার তথ্য উল্লেখ রয়েছে।
স্মারক নোটের যাত্রা
বাংলাদেশে স্মারক নোটের প্রচলনের ক্ষেত্রে ২০১১ সালটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মহান বিজয়ের ৪০ বছর উদযাপনকে স্মরণীয় করে ওই বছর স্মারক নোট ইস্যু করা হয়। পরবর্তী সময়ে ভাষা আন্দোলনের ৬০ বছর, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের শতবর্ষ, সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনের রজতজয়ন্তীসহ নানা উপলক্ষে স্মারক নোট প্রকাশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান তথ্যভাণ্ডারে ২০১১ সালের ৪০ টাকা স্মারক নোটের পাশাপাশি ২০১২ সালের ভাষা আন্দোলনের ৬০ বছর স্মারক নোট এবং ২০১৩ সালের জাতীয় জাদুঘরের শতবর্ষ ও সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত নোটের তথ্য রয়েছে।
এরপর স্মারক নোটের বিষয়বস্তু আরও বৈচিত্র্যময় হয়েছে। ২০১৮ সালে ‘Developing Bangladesh’ উপলক্ষে ৭০ টাকা স্মারক নোট, ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ১০০ টাকা নোট এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৫০ টাকা স্মারক নোট প্রকাশ করা হয়।
২০২২ সালে পদ্মা সেতু এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে ঘিরে স্মারক নোট প্রকাশের পাশাপাশি সংবিধান ও সুপ্রিম কোর্টের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষেও ৫০ টাকা স্মারক নোট ইস্যু করা হয়। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে দেশের প্রথম মেট্রোরেল উদ্বোধন উপলক্ষেও ৫০ টাকা স্মারক নোট প্রকাশিত হয়।
স্মারক মুদ্রার বিশেষত্ব
স্মারক মুদ্রার নকশায় সাধারণত যে ঘটনা বা ব্যক্তিত্বকে কেন্দ্র করে মুদ্রাটি প্রকাশ করা হয়, তার প্রতীকী উপস্থাপন থাকে। মূল্যবান ধাতু ব্যবহার এবং সীমিত সংখ্যায় প্রকাশের কারণে এসব মুদ্রা সংগ্রাহকদের কাছেও বিশেষ আগ্রহের বিষয় হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকশাল ও মুদ্রা-সংক্রান্ত ঐতিহাসিক তথ্য সংরক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হলো টাকা জাদুঘর। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এটি দেশের মুদ্রাতত্ত্বভিত্তিক বিশেষায়িত জাদুঘর, যেখানে প্রাচীন থেকে আধুনিক সময়ের বিভিন্ন মুদ্রা ও নোট প্রদর্শন করা হয়।
তবে স্মারক মুদ্রা বা নোটের সংগ্রহমূল্য নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা জাদুঘর জানিয়েছে, তারা পুরোনো মুদ্রা বা নোটের বাজারমূল্য নির্ধারণ বা মূল্যায়ন সেবা দেয় না। জাদুঘরের বিক্রয়কেন্দ্রে স্মারক নোট ও মুদ্রা নির্ধারিত মূল্যে কেনার সুযোগ রয়েছে।-
বাংলাদেশের স্মারক মুদ্রা ও নোট তাই শুধু অর্থের প্রতীক নয়; এগুলো দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, জাতীয় অর্জন ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে ধরে রাখার এক অনন্য মাধ্যম। সময়ের সঙ্গে এসব মুদ্রা ও নোট বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসের পাশাপাশি জাতীয় স্মৃতিরও মূল্যবান দলিল হয়ে উঠেছে।




