ঢাকা  শনিবার, ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
HomeUncategorizedরোজার নিয়ত

রোজার নিয়ত

সৈয়দা নার্গিস এ জাবীন
গত মাসের ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে সেহরি খাওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে পবিত্র মাহে রমজান। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি রোজা। প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলমান নারী-পুরুষের জন্য রোজা রাখা ফরজ। রোজা রাখার মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর নৈকট্য ও তাকওয়া লাভে ধন্য হয়। রোজার প্রতিদান মহান আল্লাহ নিজ হাতে দানের ঘোষণা দিয়েছেন।

এ রোজার গুরুত্ব সম্পর্কে কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, হে মুমিনগণ! তোমাদের জন্য সিয়ামের বিধান দেয়া হলো, যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীদের দেওয়া হয়েছিল, যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পারো। (সুরা বাকারা, আয়াত ১৮৩)।

রমজানের রোজা পালনের জন্য সেহরি করা আবশ্যক। হাদিসে পাকে প্রিয়নবী (সা.) সেহরি গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন। আবার যথাসময়ে ইফতার গ্রহণেরও তাগিদ প্রদান করেছেন।

হযরত আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমাদের রোজা এবং আহলে কিতাব তথা ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানদের রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো সেহরি খাওয়া। অর্থাৎ মুসলিমরা সেহরি খায় আর ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানরা সেহরি খায় না। (মুসলিম ও নাসাঈ)

রোজা পালনে সেহরি ও ইফতারের যেমন গুরুত্ব রয়েছে তেমনি রোজার নিয়ত ও ইফতারের দোয়ার রয়েছে যথেষ্ট গুরুত্ব ও তাৎপর্য। সেহরি খাওয়ার পর রোজার নিয়ত করা জরুরি।

রোজা রাখার নিয়ত-ইচ্ছা ও সংকল্প ছাড়া কেউ কয়েক দিনও খাবার না খান, তবে একে রোজা বলা যাবে না। রমজানের রোজার নিয়ত রাত থেকে বিশেষত ভোররাতে যখন সাহ্‌রি খাওয়া হয়, তখনই রোজার নিয়ত হয়ে যায়। তখন রোজা রাখার সংকল্প থাকলেই নিয়ত সম্পন্ন হয়ে যাবে। মুখে উচ্চারণের দরকার নেই। নিয়ত আরবিতে করাও জরুরি নয়।

কোনো কারণে যদি রাতে রোজার নিয়ত না করা হয় বা দ্বিধা থাকে, তবে দিনের অর্ধেক সময় অতিবাহিত হওয়ার আগ পর্যন্ত নিয়ত করার সুযোগ আছে। এরপর কিন্তু আর নিয়ত করার সুযোগ নেই। একইভাবে কেউ যদি সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখে রোজার মানত করে, তবে সেই নির্দিষ্ট দিনে অর্ধদিবস পর্যন্ত নিয়ত করার সুযোগ আছে।

অনির্দিষ্ট মানতের রোজা, কাফফারার রোজা, কাজা রোজা—এসবের জন্য কিন্তু রাত থেকেই নিয়ত করা আবশ্যক। এ ক্ষেত্রে দিনে নিয়ত করার কোনো সুযোগ নেই।

সুস্থ ও মুকিম (যিনি নিজ শহরে অবস্থান করছেন, অর্থাৎ মুসাফির নন) ব্যক্তি যদি রোজার দিনে অন্য কোনো ওয়াজিব রোজার নিয়ত করেন। কোনো মুসাফির যদি রমজানের দিনে অন্য কোনো ওয়াজিব রোজার নিয়ত করেন, তাহলে সেই ওয়াজিব রোজাই তার পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে। তবে মুসাফির যদি রমজানের দিনে নফল রোজার নিয়ত করেন, তবে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর বিশুদ্ধ মতানুযায়ী সেটা রমজানের রোজাই সাব্যস্ত হবে।

রমজানের রোজার জন্য মুখে আরবি উচ্চারণ করা জরুরি নয়, তবে তা প্রচলিত ও উত্তম। আরবি নিয়ত:
 نَوَيْتُ اَنْ اُصُوْمَ غَدًا مِّنْ شَهْرِ رَمْضَانَ الْمُبَارَكِ فَرْضَا لَكَ يَا اللهُ فَتَقَبَّل مِنِّى اِنَّكَ اَنْتَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْم
বাংলা উচ্চারণ: ‘নাওয়াইতু আন আছুমা গাদাম, মিন শাহরি রমাদানাল মুবারাক; ফারদাল্লাকা ইয়া আল্লাহু, ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নাকা আনতাস সামিউল আলিম’।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল পবিত্র রমজানের রোজা রাখার নিয়ত করছি, যা আপনার সন্তুষ্টির জন্য ফরজ করা হয়েছে। অতএব, আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করুন।
 
RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular