নাজমুল হোসেন : লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার মান্দারী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ভবনে চলছে। জনবল সংকট, ওষুধ ঘাটতি আর ভেঙে পড়া দরজা-জানালার কারণে সেবাদান ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় মায়েদের অভিযোগ, অনেক সময় ডাক্তারকে পাওয়া যায় না, ফলে সিএনজিতে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও চিকিৎসা না নিয়েই ফিরে যেতে হয়। কেন্দ্রের পাঁচজন কর্মীর পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন। একজন ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার ভিজিটর অসুস্থতার কারণে নিয়মিত আসতে পারছেন না। আর একজন আয়া নিয়মিত থাকেন। মাঠপর্যায়ের কর্মীরা দায়িত্ব পালন করলেও জনবলের ঘাটতি রয়ে গেছে। ভবনটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ছে বলে স্থানীয়রা একে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। স্থানীয় বিএনপি নেতা ও স্থানীয় লোকজন ভবনটি ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক-এর একটি পদের একজন কর্মরত আছেন, অন্যদিকে পরিবার কল্যাণ সহকারী-এর৭টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩ জন। FWA পদে ৪ জনের ঘাটতি রয়েছে। তবুও কর্মরত মাঠকর্মীরা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন। কেন্দ্রটি১৯৮৯ সালের ১৫ জুন উদ্বোধন করা হয়। তৎকালীন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আ.ও.ম শফিক উল্ল্যা এটি উদ্বোধন করেন।
দীর্ঘ সময় পেরোলেও কেন্দ্রটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও জনবল সংকট পুরোপুরি কাটেনি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
কর্তৃপক্ষ বলছে, জনবল সংকট রয়েছে এবং অসুস্থতা জনিত অনুপস্থিতির বিষয়টি তারা জানেন। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত মেরামত বা নতুন ভবন নির্মাণের মাধ্যমে মান্দারী ইউনিয়নের স্বাস্থ্যসেবার দুর্ভোগ লাঘব হবে।
মেডিকেল অফিসার এম-সিএইচ এফপি ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (অতি: দা:) ডা. জুনাইদ আহমেদ মারুফ বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করতে প্রতিটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকদের উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। চিকিৎসকদের সকাল থেকে দায়িত্ব শেষ করা পর্যন্ত উপস্থিতির তথ্য নথিভুক্ত করা হয়। নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছানোর পর সংশ্লিষ্ট হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে উপস্থিতির তথ্য ও লাইভ লোকেশন পাঠাতে বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করে ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করার চেষ্টা হচ্ছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বা সংস্কারকাজের মাধ্যমে জরাজীর্ণ ভবনটি দ্রুত ঠিক হবে, ও পর্যাপ্ত জনবল ও ওষুধ নিশ্চিত হলে মান্দারী ইউনিয়নের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।




