নাজমুল হোসেন, বিশেষ সংবাদদাতা : লক্ষ্মীপুর শহরে ১৪৪ ধারা ভেঙে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শহরের চকবাজার মসজিদের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে শহরের হাসপাতাল রোড এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী হাবিবুর রহমান ফাহিম ও জেলা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক আকবর হোসেন মুন্নার মধ্যে কথাকাটাকাটির ঘটনা ঘটে। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এর প্রতিবাদে রোববার বিকেলে চকবাজার মসজিদের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। একই সময়ে ‘জুলাই ফাইটার্স’ ব্যানারে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও সমাবেশের ঘোষণা দেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে লক্ষ্মীপুর পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ বহাল থাকার কথা জানানো হয়।
তবে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা চকবাজার এলাকায় জড়ো হলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে ওসি ওয়াহিদ পারভেজসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়।
লক্ষ্মীপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, “দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। ওসিসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন, তবে কাউকে আটক করা হয়নি।”
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাসান মাহমুদ ইব্রাহিম বলেন, “এখানে ছাত্রদলের কোনো কর্মসূচি ছিল না।”
অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সদস্য সচিব শাহেদুর রহমান রাফির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।




