ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeজাতীয়শর্তভঙ্গকারী ইজারাদারদের জামানত বাজেয়াপ্ত, কালোতালিকার সিদ্ধান্ত

শর্তভঙ্গকারী ইজারাদারদের জামানত বাজেয়াপ্ত, কালোতালিকার সিদ্ধান্ত

নিউজ ডেস্ক: কোরবানির পশুর ১১টি অস্থায়ী হাটের বর্জ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অপসারণে ব্যর্থ হওয়ায় ইজারাদারদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ইজারাদারদের জামানত বাজেয়াপ্ত এবং কালোতালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী বছর থেকে হাটের জামানতের অঙ্ক উল্লেখযোগ্যহারে বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৩১ মে) নগর ভবনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম। তিনি কোরবানির পশুর হাট পরিচালনা ও বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমের সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন।

দক্ষিণ সিটির প্রশাসক বলেন, ইজারাদারেরা শর্ত অনুযায়ী বর্জ্য অপসারণ না করায় ভোগান্তি এড়াতে সিটি করপোরেশন নিজ দায়িত্বে এসব বর্জ্য অপসারণ করেছে, যা সামগ্রিক কার্যক্রমকে কিছুটা শ্লথ ও চ্যালেঞ্জিং করেছিল। জনভোগান্তি তৈরিকারীদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, পবিত্র ঈদুল আজহার পশুর হাট ও কোরবানির বর্জ্যের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। ঈদের দিন থেকে শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে মোট ৩৬ হাজার ৮৬ টন বর্জ্য চূড়ান্তভাবে ডাম্পিং করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩৩ হাজার ৯৪২ টন।

ডিএসসিসির হিসাবে, ঈদের প্রথম দিন ১৪ হাজার ৮১৪ টন, দ্বিতীয় দিন ৮ হাজার ৯৭৭ টন এবং তৃতীয় দিন ১২ হাজার ২৯৫ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। তিন দিনে মোট অপসারিত বর্জ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ৮৬ টন। এই কর্মযজ্ঞে ডিএসসিসির নিজস্ব কর্মী, পিসিএসপিসহ মোট ১৩ হাজার ৪৫৩ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী মাঠপর্যায়ে দিনরাত কাজ করেছেন। বর্জ্য পরিবহনে ৩৮২টি বিশেষ যান–যন্ত্রপাতিসহ মোট ২ হাজার ১১৭টি ছোট-বড় গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া গত তিন দিনে ডিএসসিসি নির্ধারিত ৩৫৭টি স্থানে মোট ১৭ হাজার ৩১৫টি পশু কোরবানি করা হয় বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে।

কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিক সচেতনতার বিষয়টিও তুলে ধরেছে ডিএসসিসি। সংস্থাটি জানায়, ঈদের আগে জাতীয় দৈনিকে গণবিজ্ঞপ্তি, টিভিসি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওয়ার্ড পর্যায়ে মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হয়। নাগরিকদের উদ্বুদ্ধ করতে ৭৫টি ওয়ার্ডে ৪৬ টন ব্লিচিং পাউডার, ২১০ গ্যালন বা ১ হাজার ৫০ লিটার স্যাভলন এবং ১ লাখ ৪০ হাজার বায়োডিগ্রেডেবল ব্যাগ বিতরণ করা হয়।

ইজারাদারদের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ: তবে কোরবানির ১১টি অস্থায়ী হাটের বর্জ্য অপসারণে ইজারাদারদের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। ডিএসসিসি জানায়, শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে ইজারাদারদের বর্জ্য অপসারণ করার কথা থাকলেও তাঁরা তা করেননি। ফলে জনভোগান্তি এড়াতে সিটি করপোরেশনকে নিজ দায়িত্বে হাটের বর্জ্য সরাতে হয়েছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular