ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅপরাধশিশু আছিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যা: হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল

শিশু আছিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যা: হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : মাগুরায় আট বছরের শিশু আছিয়া আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার এ রায় দেন।

এর আগে গত ২৫ আগস্ট মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য ছিল। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তা পিছিয়ে আজ রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়।

হাইকোর্টে আসামিপক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হাসান তারেক। তাঁকে সহযোগিতা করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।

গত ১১ আগস্ট মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স এবং আসামির আপিলের ওপর হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়।

মামলার ঘটনা

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৫ মার্চ রমজানের ছুটিতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে যায় শিশু আছিয়া। সেখানে শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখ তাকে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। পরে শিশুটিকে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় আছিয়াকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় আছিয়ার মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ পরে আসামিদের গ্রেপ্তার করে।

২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। ২৭ এপ্রিল থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মামলায় ২৯ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।

মাত্র ১৩ কার্যদিবসে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়। গত বছরের ৭ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। ১৩ মে উভয় পক্ষের আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন।

এরপর ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান রায় ঘোষণা করেন। রায়ে হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। তাঁরা হলেন—শিশুটির বোনের স্বামী সজীব শেখ, সজীব শেখের ছোট ভাই এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম।

যেভাবে হাইকোর্টে আসে মামলা

আইন অনুযায়ী, বিচারিক আদালতে কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ড হলে তা কার্যকর করার আগে উচ্চ আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন। এ জন্য মামলার নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ২১ মে মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পরে নথি যাচাই-বাছাই শেষে পেপারবুক তৈরির জন্য বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে পাঠানো হয়। পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ার পর গত ৮ জুন তা হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

এরপর মামলাটি শুনানির জন্য হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় আসে। শুনানি শেষে আজ সোমবার হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার রায় দেন হাইকোর্ট।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular