নিউজ ডেস্ক : দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করতে রাজনীতিতে সৎ, যোগ্য ও মেধাবী মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান। তিনি বলেছেন, ভালো রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরি করা না গেলে উন্নয়নের যে স্বপ্নই দেখা হোক, তা দীর্ঘস্থায়ী করা কঠিন হবে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনের এলডি হলে বরিশাল ডিভিশনাল জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিডিজেএ) আয়োজিত ‘আগামীর বরিশাল বিভাগ : সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আন্দালিভ রহমান বলেন, দেশের উন্নয়নে এখন শুধু অবকাঠামো নির্মাণ বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন মানসম্মত ও টেকসই উন্নয়ন। আর সেই উন্নয়নকে মানুষের কল্যাণে স্থায়ী রূপ দিতে হলে ভালো মানুষের নেতৃত্বে আসা জরুরি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে দেশে নেতৃত্বের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। এর ফলে ভালো ও মেধাবী তরুণদের একটি অংশ রাজনীতি থেকে দূরে সরে গেছে। একই সঙ্গে রাজনীতিবিদদের প্রতি সাধারণ মানুষের মধ্যেও এক ধরনের অনাস্থা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, রাজনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্ষেত্র। ভালো উপাদান থাকলেও দক্ষ রাঁধুনি ছাড়া যেমন ভালো খাবার তৈরি হয় না, তেমনি দেশে ভালো মানুষ থাকলেও তাঁরা নেতৃত্বে না এলে উন্নয়নের সুফল টেকসই করা সম্ভব নয়।
আন্দালিভ রহমানের মতে, রাজনৈতিক নেতৃত্বের মান উন্নত করা এখন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন। বিশেষ করে তরুণ ও মেধাবী প্রজন্মকে রাজনীতিতে আসার জন্য উৎসাহিত করতে হবে এবং তাঁদের জন্য উপযুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
বরিশালের ঐতিহ্য ও অবদানের কথা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি, ক্রীড়া ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বরিশাল এবং এ অঞ্চলের মানুষের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। পাকিস্তান আমল থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের পরবর্তী সময় পর্যন্ত বরিশাল অঞ্চল থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা উঠে এসেছেন।
তিনি বলেন, বরিশালকে সত্যিকার অর্থে স্বপ্নের নগরী ও স্বপ্নের শহরে পরিণত করতে হলে আগামী দিনে ভালো রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরি করা জরুরি। শুধু নগর অবকাঠামোর উন্নয়ন নয়, নেতৃত্বের গুণগত পরিবর্তনও এ অঞ্চলের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এ জন্য বরিশালের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকা ও জেলা থেকে মেধাবী এবং যোগ্য তরুণ-তরুণীদের রাজনীতিতে আসতে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, অবকাঠামো নির্মাণ, গ্যাস সরবরাহ কিংবা শিল্পায়ন উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে বর্তমান সময়ে দেশের প্রয়োজন শুধু দৃশ্যমান উন্নয়ন নয়; বরং এমন মানসম্মত ও টেকসই উন্নয়ন, যার সুফল দীর্ঘদিন ধরে জনগণ ভোগ করতে পারবেন।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, উন্নয়নের ধারাকে স্থায়ী করতে হলে রাজনৈতিক নেতৃত্বের মান উন্নয়নের বিকল্প নেই। ভালো নেতৃত্ব থাকলে উন্নয়ন পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন, জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা সহজ হয়।
আন্দালিভ রহমান বলেন, ভালো রাজনৈতিক নেতৃত্বের ঘাটতি শুধু বরিশালের সমস্যা নয়; এটি সারা বাংলাদেশের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। আগামী প্রজন্মের জন্য যোগ্য ও সৎ রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরি করা না গেলে উন্নয়ন ও অগ্রগতির অনেক অর্জনই দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।
তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি তাঁদের জন্য সুস্থ ও ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
সেমিনারে বরিশাল বিভাগের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ এবং করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। মন্ত্রীর বক্তব্যে উন্নয়নের পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণগত পরিবর্তন এবং তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়।-
বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল বার্তা হলো—উন্নয়নকে কেবল রাস্তা, সেতু, শিল্প বা অবকাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না; সেই উন্নয়নকে টেকসই করতে প্রয়োজন দক্ষ, সৎ ও জনকল্যাণমুখী রাজনৈতিক নেতৃত্ব। বরিশাল থেকে নতুন প্রজন্মের এমন নেতৃত্ব উঠে এলে তা শুধু এ অঞ্চলের নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।



