নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চল সরাইল রিজিয়নের বিগত ১১ মাসে ১.২০৪ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় ০৪ টি সেক্টরের অধীনে ইউনিট সমূহ জানুয়ারি হতে ডিসেম্বর ২০২৪ সালে ৭৫৪ কোটি ১৫ লক্ষ টাকার চোরাচালানী পণ্য আটক করতে সক্ষম হয়েছে।
জানুয়ারি হতে ২৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ পর্যন্ত অর্থাৎ গত ১০ মাস ২৫ দিনে নিরলস অভিযানে বিজিবি সরাইল রিজিয়ন সীমান্ত সুরক্ষায় এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে।
বুধবার দুপুরে বিজিবি ময়মনসিংহের মাল্টিপারপাস শেডঘরে এক প্রেস ব্রিফিং এ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ময়মনসিংহ সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল সরকার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান এসব তথ্য প্রদান করেন।
বিজিবি সেক্টর কমান্ডার আরো বলেন, বিগত প্রায় ১১ মাসে পরিচালিত চোরাচালান বিরোধী অভিযানে সর্বমোট ৭১০ কোটি ৮১ লক্ষ টাকার চোরাচালানী পণ্য ও ৬৪ জন আসামী আটক করেছে এবং মাদকবিরোধী অভিযানে ৪৩ কোটি ৫৮ লক্ষ টাকার মাদক ও ৩৩০ জন আসামী আটক হয়।
বিজিবি’র সরাইল রিজিয়নের অধীনস্থ সেক্টর/ব্যাটালিয়ন সমূহের অদম্য অভিযানে চোরাচালান, মাদক পাচার, পুশইন, জালনোট পাচার এবং অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলন প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য সাফল্য বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, উত্তর-পূর্ব রিজিয়ন, সরাইল এর অধীনস্থ ময়মনসিংহ, সিলেট, শ্রীমঙ্গল এবং কুমিল্লা সেক্টর সদর সহ অধীনস্থ ব্যাটালিয়ন সমূহ সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন, মাদক প্রতিরোধ, পুশইন মোকাবিলা ও পরিবেশ সুরক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজে সর্বদা সচেষ্ট।
সেক্টর কমান্ডার আরো জানান, এর মধ্যে ময়মনসিংহ সেক্টর একা ৫৫ কোটি ৯৪ লক্ষ টাকার চোরাচালানী পণ্য ও ১৪ জন আসামী এবং ০৪ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকার মাদকসহ ১০০ জন আসামী গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এছাড়াও, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করতে বিজিবি কঠোরভাবে অবৈধ অনুপ্রবেশ (পুশইন) প্রতিরোধ করছে। অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের মতো পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যকলাপ দমনে সরাইল রিজিয়নের অধীনস্থ ইউনিট সমূহ বিভিন্ন সময়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ১৮ জন আসামীসহ ৯ লক্ষ ৭৫ হাজার ৭৫৬ ঘনফুট বালু ও ৪ লক্ষ ৯১ হাজার ৮৪২ ঘনফুট পাথর জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে। এসব অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ট্রাক-২৭টি, ট্রলি-৭৫ টি, ট্রাকটর-৪৫ টি, লরি-১৮ টি এবং নৌকা-৪০ টি জব্দ করা হয় এবং বহু অবৈধ সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে। দেশের অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে জালনোট পাচার রোধে সীমান্তে গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তে চোরাচালান, মাদক, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পরিবেশ বিরোধী কর্মকান্ড প্রতিরোধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে এবং ড্রোন, নাইট ভিশন ও ডিজিটাল সার্ভেইলেন্সের মাধ্যমে নজরদারি জোরদার করেছে। সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত স্থানীয় জনসাধারণকে প্রতিনিয়ত প্রেষণা প্রদান করা হচ্ছে যাতে অবৈধ কর্মকান্ড সংঘটিত হলে সাথে সাথে বিজিবি’কে অবহিত করার পাশাপাশি নিজেরাও প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
এসব কার্যক্রম সফল করতে স্থানীয় প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ জনগণের সহযোগিতা অপরিহার্য এবং সীমান্ত সুরক্ষিত রাখলে দেশ সুরক্ষিত থাকবে, আর বিজিবি সেই দায়িত্বে সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ বলে কর্ণেল সরকার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান জানান।



